আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দামের পাশাপাশি বড় পতন হয়েছে স্বর্ণের দামেও। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আগামী দিনের মুদ্রানীতির পূর্বাভাসের কারণে বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা বজায় থাকলে চলতি বছর শেষে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হতে পারে, যা প্রতি আউন্সে ৩,৭০০ থেকে ৩,৮০০ ডলারে নেমে যাওয়ার আভাস রয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স (আড়াই ভরি) স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪,৪৮৬.২৬ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, স্পট রুপার দাম এক ধাক্কায় ২.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪.৯৭ ডলারে নেমেছে।
দাম কমার মূল কারণসমূহ:
- ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধবিরতি শঙ্কা: গত মঙ্গলবার ইরান অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। দুই দেশের এই সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বাজার এখন অস্থির।
- ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি: বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারকদের পরবর্তী মন্তব্যের অপেক্ষায় আছেন। পাশাপাশি আগামী বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের ‘ব্যক্তিগত ভোগব্যয়’ (PCE)-এর তথ্য প্রকাশ হবে, যা থেকে বোঝা যাবে মুদ্রাস্ফীতি কোন দিকে যাচ্ছে এবং ফেড সুদের হার কমাবে নাকি বাড়াবে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস: বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘টেস্টিলাইভ’-এর গ্লোবাল ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, “স্বর্ণের বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা এখন নিচের দিকে। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি ও বন্ডের ওঠানামা বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ স্বর্ণ থেকে কিছুটা সরে গেছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বছরের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩,৭০০ থেকে ৩,৮০০ মার্কিন ডলারে নেমে যেতে পারে।”
অন্যান্য ধাতুর দামেও পতন: স্বর্ণ ও রুপার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বড় পতন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটিনামের দাম ১.৮ শতাংশ কমে ১,৯২২.৫৮ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ১.১ শতাংশ কমে ১,৩৬৪.১৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।



