চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়নের অভিযোগ, পরীক্ষকের কাছ থেকে জব্দ ৪০০ উত্তরপত্র

২ আগস্ট ২০২৬

বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে সিলেটের এক পরীক্ষককে আটক করেছে শিক্ষা বোর্ড। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন বন্ধুও উত্তরপত্র মূল্যায়নে অংশ নিয়েছিলেন।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

আটক হওয়া ইকবাল হোসেন (সোহান) সিলেটের মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক এবং সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক। শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ইকবাল হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুদের মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহসভাপতি আইরিন লিনজাসহ আরও দুজনও উত্তরপত্র মূল্যায়নে অংশ নেন। এ সময় দোকানে একটি বস্তাভর্তি উত্তরপত্র ছিল। স্থানীয় সূত্র জানায়, আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই স্থানে বসে তারা উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন।

ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার রাতেই ঘটনাস্থলে যান সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। সেখানে গিয়ে তারা ইকবাল হোসেনকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় আটক করেন এবং তাঁর কাছ থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করেন।

শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, খবর পাওয়ার পর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষককে খাতা মূল্যায়নের সময় হাতেনাতে ধরেন। সেখান থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শিক্ষা বোর্ডের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চায়ের দোকানের মালিক ফজলুল হক বলেন, ঘটনার সময় তিনি দোকান গুছাচ্ছিলেন। তখন ভেতরে বসে তারা উত্তরপত্র দেখছিলেন। পরে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সবাই চলে যান। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত পরীক্ষক ও তাঁর সহপাঠীরা আগের রাতেও দোকানে এসেছিলেন এবং তাঁরা নিয়মিত ওই দোকানে চা পান ও আড্ডা দিতে আসতেন।

ঘটনার পর ইকবাল হোসেনকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা নিজেদের হেফাজতে নেন। তবে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়নি।

সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, চায়ের দোকানে খাতা মূল্যায়নের অভিযোগে একজন শিক্ষককে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা থানায় নিয়ে এসেছিলেন। পরে এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর তাঁকে আবার শিক্ষা বোর্ডের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ইকবাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অন্যদিকে তাঁর বন্ধু আইরিন লিনজা সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর কাছ থেকে কোনো উত্তরপত্র জব্দ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, তিনি সেখানে শুধু বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সর্বশেষ