আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার পবিত্র রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ। সুফি অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দিনটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বখ্যাত কাদেরিয়া সুফি ধারার প্রতিষ্ঠাতা, প্রখ্যাত আলেম ও আধ্যাত্মিক সাধক হজরত শেখ আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে দিনটি স্মরণ করা হয়।
‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ কী? আরবি ‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ দোয়া, মোনাজাত কিংবা কোনো বুজুর্গ ব্যক্তির রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন তিলাওয়াত ও ইসালে সওয়াব করা। অন্যদিকে ফারসি ‘ইয়াজদহম’ শব্দের অর্থ হলো এগারো। ফলে ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ বলতে হিজরি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে আয়োজিত জিয়ারত, ফাতিহা পাঠ ও ইসালে সওয়াবের বিশেষ অনুষ্ঠানকে বোঝায়।
কে ছিলেন হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)? প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ৪৭০ হিজরিতে (১০৭৮ খ্রিষ্টাব্দ) ইরানের জিলান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে তিনি বাগদাদে পাড়ি জমান এবং সেখানে তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও আরবি সাহিত্যে অগাধ পণ্ডিত্য অর্জন করেন।
তিনি সুফি ঐতিহ্যে ‘গাউসুল আজম’ ও ‘বড়পীর’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর বয়ান ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা তৎকালীন সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘গুনিয়াতুত তালিবিন’, ‘ফাতহুল গাইব’ এবং ‘আল-ফাতহুর রাব্বানি’ অন্যতম।
কেন পালিত হয় এই দিনটি? ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি বাগদাদে ইন্তেকাল করেন হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)। মূলত তাঁর স্মৃতি ও অবদানকে স্মরণ করে রবিউস সানির ১১ তারিখে কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দান-সদকা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। দিনটিতে মাহফিলের মাধ্যমে তাঁর ধর্মীয় বার্তা, নৈতিক আদর্শ ও সত্যবাদিতার শিক্ষা আলোচনা করা হয়।
আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে শিক্ষার গুরুত্ব: দিনটি পালনে বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে আত্মশুদ্ধি, সততা, সংযম ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের ওপর জোর দেন তাঁর অনুসারীরা।
তবে ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষ্যে নানা আয়োজনের শরয়ি বৈধতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। আলেমসমাজ দিনটি পালনকালে যেকোনো ধরনের অপচয়, অতিরিক্ত আড়ম্বর বা ধর্মীয় ভিত্তিহীন রীতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
আজ দিনটি পালনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরআনখানি, মিলাদ, আলোচনা সভা ও দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।



