পারস্পরিক আমদানিকৃত প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। কৃষিপণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, প্রসাধনী, খেলনাসহ নানা সংবেদনশীল নয় এমন পণ্যের ওপর এই শুল্ক ছাড় কার্যকর হবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, ইউএস-চায়না বোর্ড অব ট্রেডের আওতায় দুই দেশই ৩ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যকে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধার আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। এর ফলে চীনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ হবে।
কোন কোন পণ্যে মিলছে ছাড়
হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত ভুট্টা, গম, সরগম, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল ও খৈলের মতো কৃষিপণ্যে শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা করেছে (তবে তালিকায় সয়াবিন নেই)। এছাড়া সামুদ্রিক মাছ, কাঠ, প্রসাধনী ও চিকিৎসা সরঞ্জামও এই তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের মধ্যে কফি মেকার, টোস্টার, কম্বল, বিছানার চাদর, টেবিলওয়্যার, খেলনা, কৃত্রিম ফুল, ক্রিসমাস ট্রির বাতি ও শিশুদের গাড়ির আসনের ওপর শুল্ক ছাড় দিচ্ছে।
কৃষিপণ্য ও কয়লা আমদানির নতুন চুক্তি
সমঝোতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে চীনের। ইতিমধ্যে বছরে আড়াই কোটি মেট্রিক টন সয়াবিন কেনা পুনরারম্ভ করেছে বেইজিং। তাছাড়া দুই দেশের কৃষি বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৭ ও ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর ১ কোটি মেট্রিক টন কয়লা আমদানিতে রাজি হয়েছে চীন, যা দেশটির মোট বার্ষিক কয়লা আমদানির প্রায় ২ শতাংশ।
বাণিজ্যবিরতি বৃদ্ধি ও এআই সংলাপ
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোর ফলে দুই দেশ চলমান চুক্তিগুলো মূল্যায়ন ও নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ পাবে। বাণিজ্য ছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়াতে যোগাযোগের জন্য বিশেষ চ্যানেল রাখতে একমত হয়েছে দুই দেশ, যার পরবর্তী আলোচনা নভেম্বরের শেষে অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনে ব্যবসায় ছাড় দেওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল বাড়ানোর বিষয়েও কথা হচ্ছে।



