নয় বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থানরত দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) বর্তমান নিজের অবস্থা ও দেশত্যাগের পেছনের প্রেক্ষাপট নিয়ে মুখ খুলেছেন। বর্তমানে কানাডার টরন্টোতে অবস্থানরত সাবেক এই প্রধান বিচারপতি নিজেকে ‘ভাসমান লোক’ ও ‘স্ট্যাটাসবিহীন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে ঢাকা ছাড়েন এস কে সিনহা। দীর্ঘ এই প্রবাসজীবন এবং তৎকালীন সরকারের নানা চাপের স্মৃতিচারণ করে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
‘সাজানো মামলায় আমাকে রিফিউজি বানিয়েছে’
নিজের বর্তমান আইনি ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে এস কে সিনহা বলেন, “আমি তো রিফিউজি হিসেবেই আছি এখন। কারণ হলো শেখ হাসিনার সরকার আমাকে একটা কনভিকশন দিয়েছিল, একটা সাজানো মামলায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি স্ট্যাটাসবিহীন একেবারে ফ্লোটিং ম্যান, যাকে বলে ভাসমান লোক হিসেবে আছি।”
তিনি জানান, কানাডায় তাঁর স্ত্রীর স্থায়ী বাসস্থানের (পিআর) স্ট্যাটাস হয়ে গেলেও বাংলাদেশে সাজানো মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে তাঁর নিজের পুলিশ রিপোর্ট ও পিআর কার্ড ঝুলে রয়েছে।
দেশে ফেরার আকুতি ও পাসপোর্ট বিড়ম্বনা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরপরই দেশে ফেরার জন্য পাসপোর্টের আবেদন করেছেন বলে জানান সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল কার্যালয়ে সর্বশেষ গত ৪ আগস্ট রিমাইন্ডার পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।
ষোড়শ সংশোধনী ও বঙ্গভবনের সেই চাপ
আত্মজীবনীমূলক বই ‘আ ব্রোকেন ড্রিম’ ও সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে এস কে সিনহা জানান, ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় সরকারের পক্ষে দেওয়ার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
তিনি বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে ২০১৭ সালের ২ জুলাই বঙ্গভবনে এক বৈঠকে তাঁকে সরকারের পক্ষে রায় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু তিনি অনড় থাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। পরবর্তীতে অবকাশকালীন ছুটির ঠিক আগে গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই) তৎকালীন মহাপরিচালকের মাধ্যমে তাঁকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পেনশনের জটিলতা
সাবেক এই প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি অর্জিত ছুটির (ল্যাম্প গ্রান্ট) কিছু অর্থ পেলেও পূর্ণাঙ্গ পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন না। কনসাল জেনারেলের কার্যালয় থেকে স্বাক্ষর প্রতিস্বাক্ষর (কাউন্টার সাইন) করার নিয়মকে ‘অপমানজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হলেও তিনি কখনো নীতি থেকে নত হননি।



