বিয়ে করার সঠিক বয়স নিয়ে বিতর্কের যেন শেষ নেই। কারও মতে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও ক্যারিয়ারের জন্য একটু বেশি বয়সে বিয়ে করা ভালো, আবার কারও মতে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরপরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে মতামত যাই থাকুক না কেন, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যৌবনে পা রাখার পরই দ্রুত বিয়ে করা বেশ বুদ্ধিমানের কাজ।
অল্প বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে জীবন অনেক সহজ হয়ে যায় এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা ছোটখাটো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একইসঙ্গে এটি মানুষকে দ্রুত দায়িত্বশীল করে তোলে। কম বয়সে বিয়ে করার গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. তাড়াহুড়ো ছাড়া বন্ধন উপভোগের সুযোগ
অল্প বয়সে বিয়ে করার ফলে শুরুতেই সন্তান নেওয়ার পারিবারিক চাপ থাকে না। ফলে সন্তান জন্মের পর তার লালন-পালন বা পড়াশোনা নিয়ে শুরুতেই চিন্তা করতে হয় না। স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরির সুযোগ পান এবং দারুণ সময় কাটাতে পারেন।
২. মানসিক চাপ কম থাকা
একাকী সব সুখ-দুঃখ সহ্য করার চেয়ে দুজনের মধ্যে তা ভাগ করে নেওয়া অনেক সহজ। জীবনের মন খারাপ বা দুশ্চিন্তার বিষয়গুলো কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করলে মন হালকা হয়। এতে করে দৈনন্দিন জীবনের মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।
৩. স্বাস্থ্যগত জটিলতা এড়ানো
বেশি বয়সে বিয়ে করলে গর্ভধারণসহ সন্তান জন্মদানে নানা রকম শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া দেরিতে বাবা-মা হলে সন্তানদের সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত লালন-পালন ও সময় দেওয়ার ক্ষেত্রেও সময় কম পাওয়া যায়। অল্প বয়সে বিয়ে করলে এসব ঝুঁকি থাকে না।
৪. সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা ও ঘুরে দাঁড়ানোর সময়
হঠাৎ করে বেশি বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে অনেক সময় বন্ডিং তৈরি হতে না পেরে বিচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে অল্প বয়সে বিয়ে হলে দুজনের মানিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, ফলে ডিভোর্সের সম্ভাবনা কমে। আর কোনো কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্ছেদ হলেও নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার জন্য হাতে যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়।
৫. জীবনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা
সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও বিয়ে না দিলে ভুল বা অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে, যা সামাজিকভাবেও সম্মানহানি ঘটাতে পারে। কম বয়সে বিয়ে দিলে সন্তান শৃঙ্খলার মধ্যে থাকে, অবক্ষয় থেকে দূরে থাকে এবং দ্রুত দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।



