২০২৭ সালের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি: ঈদুল ফিতরে ৫, আজহায় ৬ দিন ছুটি

৫ নভেম্বর ২০২৬

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। চলতি বছরের মতো আগামী বছরও ঈদুল ফিতরে পাঁচ দিন, ঈদুল আজহায় ছয় দিন এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় দুই দিন ছুটি থাকবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাধারণ ছুটি ১৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৫ দিন, মোট ২৯ দিন। এর মধ্যে ৭ দিন শুক্র ও শনিবারে পড়ায় সরকারি কর্মচারীরা কার্যত ২২ দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের সব সরকারি ও আধা সরকারি অফিস এবং সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় এসব ছুটি পালন করা হবে।

সাধারণ ছুটির তালিকা

২১ ফেব্রুয়ারি: শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
৫ মার্চ: জামাতুল বিদা
১০ মার্চ: ঈদুল ফিতর
২৬ মার্চ: স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস
১৩ এপ্রিল: চৈত্রসংক্রান্তি
১ মে: মে দিবস
১৭ মে: ঈদুল আজহা
২০ মে: বুদ্ধপূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা)
৫ আগস্ট: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস
১৫ আগস্ট: ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
২৫ আগস্ট: জন্মাষ্টমী
১০ অক্টোবর: দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী)
৭ নভেম্বর: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
১৬ ডিসেম্বর: বিজয় দিবস
২৫ ডিসেম্বর: যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন (বড়দিন)

নির্বাহী আদেশে ছুটি

২৪ জানুয়ারি: শবে বরাত
৭ মার্চ: শবে কদর
৮ ও ৯ মার্চ এবং ১১ ও ১২ মার্চ: ঈদুল ফিতরের আগে দুই ও পরে দুই দিনসহ মোট চার দিন
১৪ এপ্রিল: বাংলা নববর্ষ
১৫ ও ১৬ মে এবং ১৮ থেকে ২০ মে: ঈদুল আজহার আগে দুই ও পরে তিন দিনসহ মোট পাঁচ দিন
১৬ জুন: আশুরা
৯ অক্টোবর: দুর্গাপূজার মহানবমী

ঐচ্ছিক ছুটি

মুসলিম পর্ব: ৬ জানুয়ারি শবে মিরাজ, ১৩ মার্চ ঈদুল ফিতরের পরের তৃতীয় দিন, ২১ মে ঈদুল আজহার পরের চতুর্থ দিন, ২৮ জুলাই আখেরি চাহার সোম্বা, ১৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম এবং ২৬ ডিসেম্বর শবে মিরাজ।

হিন্দু পর্ব: ১১ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পূজা, ৬ মার্চ শিবরাত্রি ব্রত, ২২ মার্চ দোলযাত্রা, ৪ এপ্রিল হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, ৩০ সেপ্টেম্বর মহালয়া, ৭ ও ৮ অক্টোবর দুর্গাপূজা (সপ্তমী ও অষ্টমী), ১৪ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা এবং ২৮ অক্টোবর শ্যামাপূজা।

খ্রিষ্টান পর্ব: ১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ, ১০ ফেব্রুয়ারি ভস্ম বুধবার, ২৫ মার্চ পুণ্য বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ পুণ্য শুক্রবার, ২৭ মার্চ পুণ্য শনিবার, ২৮ মার্চ ইস্টার সানডে এবং ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর যিশুখ্রিষ্টের জন্মোৎসব (বড়দিনের আগে ও পরের দিন)।

বৌদ্ধ পর্ব: ২০ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমা, ১৩ এপ্রিল চৈত্রসংক্রান্তি (তিনটি পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের অন্যত্র সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য), ১৯ ও ২১ মে বুদ্ধ পূর্ণিমা (আগের ও পরের দিন), ১৮ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ১৫ সেপ্টেম্বর মধু পূর্ণিমা এবং ১৪ অক্টোবর প্রবারণা পূর্ণিমা (আশ্বিনী পূর্ণিমা)।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও এর বাইরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের জন্য ১২ ও ১৫ এপ্রিল বৈসাবি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অনুরূপ সামাজিক উৎসব।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একজন কর্মচারী নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে অনধিক মোট তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এজন্য বছরের শুরুতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে। সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করেও ঐচ্ছিক ছুটি ভোগের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

যেসব অফিসের সময়সূচি ও ছুটি নিজস্ব আইনকানুনে নিয়ন্ত্রিত, কিংবা যেসব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেগুলো নিজস্ব আইনকানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে ছুটি ঘোষণা করবে।

এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়।

সর্বশেষ