৭ নভেম্বর: যে বিপ্লব বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাস

৭ নভেম্বর ২০২৬

৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন অধ্যায় রচিত হয়। অনেকে একে ইতিহাসের বাঁক হিসেবে দেখেন। আবার অনেকে একে রাষ্ট্রের স্বাধীন অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতির প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেন। ৫১ বছর আগে এই দিনে বাংলাদেশের মধ্যমণি হয়ে ওঠেন তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের প্রধান ও স্বাধীনতার ঘোষক।

দিনটি দেশে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এদিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলা অস্থিরতার অবসান ঘটে এবং চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এই স্থিতিশীলতায় পৌঁছাতে বাংলাদেশকে এক অস্থির সময় পার করতে হয়। সামরিক বাহিনীতে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে, আর এ সুযোগে গজিয়ে ওঠা দেশি-বিদেশি চক্রান্তও মোকাবিলা করতে হয়।

১৫ আগস্টের পর যে পরিস্থিতি

ইতিহাসবিদদের মতে, ৭৫ সালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়বিদারক ধারাবাহিক ঘটনার চূড়ান্ত পর্যায় ৭ নভেম্বর। এর আগে ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর গুম-খুন, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট রোধে ব্যর্থতা এবং গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় শাসন কায়েমের অভিযোগে এ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন সামরিক বাহিনীর কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মেজর।

শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর তাঁর বাকশাল সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খোন্দকার মোশ্তাক আহমদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। সদ্য বিগত সরকারের ২৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২১ জন তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এমএইচ খান, বিমানবাহিনী প্রধান এ কে খোন্দকার ও বিডিআর প্রধান খলিলুর রহমান নতুন সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন। রক্ষীবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর প্রধানরাও আনুগত্য দেখান।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোশ্তাকের সার্বক্ষণিক সহচর হন অভ্যুত্থানকারী সামরিক কর্মকর্তারা। তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিতে থাকেন। এ নিয়ে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে সুপ্ত ক্ষোভ ছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২৪ আগস্ট মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নতুন সেনাপ্রধান হন। জেনারেল (অব.) ওসমানীকে রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা করা হয়। তিন বাহিনীর সমন্বয়ের জন্য ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ’ নামে একটি পদ তৈরি করে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয় বিডিআরের মহাপরিচালক খলিলুর রহমানকে। বাহিনী প্রধানদের চাপে রাখতেই রাষ্ট্রপতি মোশ্তাক সুচতুরভাবে এ কাজটি করেছিলেন। পাশাপাশি বঙ্গভবনে থাকা মেজর ফারুক ও রশীদের ক্ষমতা প্রদর্শনও চলছিল।

নভেম্বরের অস্থির দিনগুলো

সব মিলিয়ে দেশে অস্থিতিকর ও গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এ প্রেক্ষাপটে নভেম্বর মাসের অনুঘটক ছিলেন তিন মুক্তিযোদ্ধা: সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, চিফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এবং অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল তাহের। এঁদের মধ্যে দেশের মানুষ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কাছে জিয়াউর রহমান ছিলেন অধিক জনপ্রিয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের ওপর পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হামলার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে দিকনির্দেশনা দিতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়। সেই মুহূর্তে চট্টগ্রামে নিজ ইউনিট নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন জিয়াউর রহমান। চট্টগ্রামের অস্থায়ী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি দেশবাসীর প্রাণভোমরায় পরিণত হন।

মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী তাঁর ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, জিয়া সেনাপ্রধান হওয়ার পর খালেদ মোশাররফ সেনাবাহিনীতে নিজের অবস্থান নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় নানা গুজব ছড়াতে থাকে, সেনানিবাসে অস্থিরতা বিরাজ করে এবং দেশ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে থাকে।

২ নভেম্বর: খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান

২ নভেম্বর রাতে ঢাকার ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল শাফায়েত জামিলকে সঙ্গে নিয়ে সেনানিবাসে অভ্যুত্থান ঘটান সিজিএস খালেদ মোশাররফ। প্রথমে ২৮ অক্টোবর অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হলেও পরে তারিখ বদলানো হয়। ভবিষ্যৎ অন্ধকার মনে করে খালেদ মোশাররফ জিয়াউর রহমানকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ২ নভেম্বর রাতেই সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে সস্ত্রীক গৃহবন্দি করা হয় এবং জোরপূর্বক পদ থেকে তাঁর ইস্তফা আদায় করা হয়। ৩ নভেম্বর ভোরে খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের সমর্থনে ঢাকার আকাশে যুদ্ধবিমান মহড়া দেয়।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ ‘জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, জেনারেল ওসমানীর মধ্যস্থতায় খালেদ মোশাররফের সঙ্গে আপসরফার ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত রশিদ, ফারুক, ডালিমসহ ১৫ জনকে বিমানে ব্যাংকক যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাঁরা বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন।

৩ নভেম্বর: জেলহত্যা

৩ নভেম্বর ঘটে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা ইতিহাসে জেলহত্যা নামে পরিচিত। খোন্দকার মোশ্তাক রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আওয়ামী লীগের চার নেতা তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। মইনুল হোসেন বীরবিক্রম তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ৩ নভেম্বর রাতেই রাষ্ট্রপতি মোশ্তাক ও মেজর রশিদ-ফারুকের নির্দেশে জেলের ভেতরেই ১ম বেঙ্গল ল্যান্সারের ট্যাংক রেজিমেন্টের কয়েকজন সৈনিক ওই চার নেতাকে হত্যা করেন।

৪ থেকে ৬ নভেম্বর

৪ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ নতুন সেনাপ্রধান হন। তিনি ভারতপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এদিন ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি মিছিল হয়, যাতে খালেদ মোশাররফের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ মোশাররফ ও তাঁর মা অংশ নেন। এতে সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ ও দেশের অনেক মানুষ মনে করেন, আওয়ামী লীগ ও ভারতপন্থিদের পক্ষে অভ্যুত্থান হয়েছে। ৪ নভেম্বর রাতেই খোন্দকার মোশ্তাক পদত্যাগ করেন এবং তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়। ৬ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।

সেনাবাহিনীতে জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ছিল অসীম। তাই তাঁকে গৃহবন্দি করে খালেদ মোশাররফের সেনাপ্রধান হওয়া অনেককে ক্ষুব্ধ করেছিল। তাঁদেরই একটি অংশ ৬ নভেম্বর মধ্যরাতে পাল্টা অভ্যুত্থান করে। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন কর্নেল তাহেরের অনুগত ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’র সদস্যরা। এটি ছিল সৈনিকদের একটি গুপ্ত সংগঠন, যার সদস্যরা মূলত মুক্তিযুদ্ধের সময় নবম সেক্টরের অধিনায়ক মেজর জলিলের অনুগত। জাসদে যোগ দেওয়ার পর জলিল কর্নেল তাহেরকে সেনাসদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব দেন। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছিল। তাহের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রচলিত সেনাবাহিনীর পরিবর্তে গণচীনের আদলে একটি বিপ্লবী গণবাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা চালান।

৭ নভেম্বর: জিয়াউর রহমানের মুক্তি

জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তায় ভর করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে তাহের ৭ নভেম্বরে আবির্ভূত হন। তিনি জিয়াউর রহমানকে তুরুপের তাস হিসেবে খেলতে চেয়েছিলেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যরা সামরিক বাহিনীর মধ্যে লিফলেট ছড়িয়ে সাধারণ সিপাহিদের উত্তেজিত করে তোলে। সামরিক বাহিনীকে কর্মকর্তাশূন্য করার ভ্রান্ত প্রচারণাও তারা চালায়। তাদের কয়েকটি স্লোগান ছিল, ‘সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই’ এবং ‘সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, সুবেদারের ওপরে অফিসার নাই’।

তাহের সম্ভবত জিয়ার জনপ্রিয়তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। জেনারেল জিয়ার প্রতি অনুগত সৈন্যদল এবং ২য় ফিল্ড আর্টিলারির সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ানরা তাহেরের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা আগে থেকে আঁচ করে অতি গোপনে একটি আগাম পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। সেই অনুযায়ী ৭ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে, অর্থাৎ জাসদের অভ্যুত্থান শুরুর এক ঘণ্টা আগে, ২য় ফিল্ড আর্টিলারির জওয়ানরা মেজর মহিউদ্দিন ও সুবেদার মেজর আনিসুল হকের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানের বাসায় গিয়ে তাঁকে মুক্ত করেন। তাঁরা তাঁকে কাঁধে করে ২য় ফিল্ড আর্টিলারির হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসেন।

কিছুক্ষণ পরই সেখানে হাজির হন তাহের। তিনি জিয়াকে সেনানিবাসের বাইরে নিয়ে যেতে চাইলেও ব্যর্থ হন। তাহেরের কথামতো জিয়াউর রহমান সেদিন রেডিও সেন্টারেও যাননি। তাহেরের উদ্দেশ্য ছিল জিয়াউর রহমানকে দিয়ে সমাজতান্ত্রিক ধাঁচে রাষ্ট্র কাঠামোর ঘোষণা দেওয়ানো। এরই অংশ হিসেবে তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যরা কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে নির্বিচারে হত্যাও করে। তবে জিয়াউর রহমান সেনানিবাসের বাইরে না গিয়ে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগী হন।

নায়কের ভূমিকায় জিয়াউর রহমান

৭ নভেম্বর অভ্যুত্থানের কোনো পূর্ব পরিকল্পনা বা পূর্বনির্ধারিত নেতা ছিল না। মূলত জনপ্রিয় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করে ক্ষমতা দখলের খালেদ মোশাররফের অভিপ্রায়ই তাৎক্ষণিক সিপাহি বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটায়। সেনাবাহিনীর অস্থিরতাও এ বিপ্লবের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে তাহের জিয়াকে গৃহবন্দিত্ব থেকে উদ্ধারের নামে তাঁর দল জাসদের রাজনৈতিক দর্শন বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বাস্তবায়নের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। কিন্তু খালেদ মোশাররফ ও তাহের কেউ সফল হননি। মেধা, বিচক্ষণতা ও জনপ্রিয়তায় জিয়াউর রহমান দুজনকেই টপকে যান। ঘটনার শেষে তিনি নায়কের ভূমিকায় আবির্ভূত হন এবং সবকিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রয়োজনের মুহূর্তে জীবন বাজি রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, যা তিনি ৭১ সালের ২৬ মার্চ করে দেখিয়েছিলেন। তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণায় সেদিন হতবিহ্বল জাতি সম্বিত ফিরে পেয়েছিল। তিনি ছিলেন অমিত সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একজন, আবার সুশৃঙ্খল ও আইন অনুগত সৈনিকও। এসব গুণ তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায় এবং তিনি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হন। তাঁর সমর্থনে ৭ নভেম্বর সামরিক বাহিনীর জওয়ান ও আপামর জনসাধারণ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি সিপাহি-জনতার বিপ্লবের অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন।

ঐতিহাসিক তাৎপর্য

৭ নভেম্বর কেবল অতীতের কোনো অভ্যুত্থান বা ক্ষমতার পালাবদলের দিন নয়। এটি ছিল চরম অনিশ্চয়তা, বিভক্তি ও বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনার এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ধারাবাহিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান, হত্যাকাণ্ড ও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভাজনে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সামরিক শৃঙ্খলা গভীর সংকটে পড়ে। তখন ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করে।

জিয়াউর রহমানের মুক্তি, তাঁর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও সংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা পরবর্তী বাংলাদেশের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। শুধু সামরিক বাহিনী নয়, প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক সমাজজীবনেও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দিনটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য গভীর। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়াউর রহমানের পরিচিতি, সেনাবাহিনীতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তাঁকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, সামরিক শৃঙ্খলা, জাতীয় সংহতি ও রাজনৈতিক বিকাশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র বদলায়নি, সংকটাপন্ন একটি রাষ্ট্রকে নতুন করে দাঁড়ানোর পথও তৈরি করেছিল। তাই ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি স্মরণীয় তারিখ নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়। আর এ অধ্যায়ের মূল নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান।

সর্বশেষ