গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও দেশের চিকিৎসার উপরই আস্থা রাখছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে তিনি আপাতত আগ্রহ দেখাননি বলে সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, “ম্যাডামের বর্তমান শারীরিক অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। আপাতত তাকে লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। দেশে থেকেই তার চিকিৎসা চলবে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
বিএনপি ও চিকিৎসক দলের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মুহূর্তে বিমান ভ্রমণ সম্ভব নয়। তাই দেশে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি আবারও বিবেচনায় আসবে।
২৩ নভেম্বর রাতে অসুস্থতা বেড়ে গেলে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা পরিচালনা করছে। বোর্ড জানিয়েছে, একাধিক পুরোনো জটিলতা একসঙ্গে প্রভাব ফেলায় তার সুস্থতা ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও শারীরিক অবস্থা ‘ফ্লাইং ফিট’ না হওয়ায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর নির্ধারিত সময়সূচি দুবার পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে, গত ৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ও চিকিৎসক ডা. জোবায়দা রহমান। তিনি মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে তার শাশুড়ির চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করছেন। দলীয় সূত্র জানায়, ডা. জোবায়দা রহমান জানিয়েছেন—খালেদা জিয়া নিজেই দেশের বাইরে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় অল্প অল্প উন্নতি দেখা গেলেও তা সন্তোষজনক পর্যায়ের নয়। বয়স এবং একাধিক জটিল রোগের কারণে চিকিৎসায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। লিভারের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিডনির অবস্থা উদ্বেগজনক। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হচ্ছে।
৮০ বছর বয়সী এই রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্র–সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। সিসিইউতে নেওয়ার পর থেকে দেশি-বিদেশি প্রায় ২০ জন বিশেষজ্ঞ প্রতিদিন তার চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।



