১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পোষা প্রাণী হারালে করণীয়

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

দরজা-জানালা খোলা থাকা বা অসতর্কতার কারণে প্রিয় পোষা বিড়াল বা কুকুর হারিয়ে গেলে দ্রুত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। গুলশান পেট ক্লিনিকের উদ্যোক্তা ও পেট কাউন্সেলর এসেম জাহান শাম্মী এই বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রথম কয়েক ঘণ্টার উদ্যোগেই প্রাণীটিকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

  • তথ্য সংগ্রহ: প্রথমে শান্ত হয়ে পোষা প্রাণীর নাম, বয়স, রং, জাত, বিশেষ চিহ্ন, শেষ দেখার সময়-স্থান এবং যোগাযোগের নম্বর নোট করুন। একটি স্পষ্ট ছবি প্রস্তুত রাখুন।
  • তাৎক্ষণিক খোঁজ: অধিকাংশ হারানো প্রাণী দূরে যায় না। প্রথম দুই ঘণ্টায় আশপাশের এলাকা (গাড়ির নিচে, ডাস্টবিনের পাশে, গলির কোণে বা ছাদে) খুঁজুন। প্রিয় খেলনা বা খাবার নিয়ে নাম ধরে ডাকুন। রাতে টর্চলাইট ব্যবহার করলে বিড়ালের চোখ সহজে শনাক্ত করা যায়।
  • সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার: ‘বাংলাদেশ ক্যাট লাভার সোসাইটি’ বা ‘ডগ লাভারস অব বাংলাদেশ’-এর মতো ফেসবুক গ্রুপ ও পেইজে ছবি, বর্ণনা, শেষ স্থান-সময় এবং পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে পোস্ট দিন।
  • আইনি সহায়তা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বিভাগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন। এটি চুরি বা অপহরণের ক্ষেত্রে সহায়ক।
  • প্রাণীকল্যাণ সংস্থা: ‘রবিনহুড রেসকিউ’ বা ‘আলফা এনিমেল শেল্টার’-এর মতো প্রাণীকল্যাণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

📍 স্থায়ী শনাক্তকরণ: মাইক্রোচিপিং

পোষা প্রাণীর জন্য মাইক্রোচিপিং একটি কার্যকর স্থায়ী শনাক্তকরণ পদ্ধতি। চালের দানার সমান এই চিপ ত্বকের নিচে স্থাপন করা হয় এবং এতে থাকা অনন্য নম্বর স্ক্যানারে পড়লে মালিকের তথ্য পাওয়া যায়।

  • উপকারিতা: হারানো প্রাণী ফিরে পেলে ভেট ক্লিনিক বা আশ্রয়কেন্দ্র স্ক্যান করে দ্রুত মালিককে খুঁজে বের করতে পারে।
  • প্রাপ্তিস্থান: ঢাকায় ‘গুলশান পেট ক্লিনিক’, ‘ডা. সগির পেট ক্লিনিক’ বা ‘পেট সার্ভিস বিডি ক্লিনিক’-এ এটি করা যায়।
  • খরচ: সাধারণত ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা (ক্লিনিকভেদে ভিন্ন)।
  • অন্যান্য বিকল্প: সহজ বিকল্প হিসেবে কলারে নাম-নম্বর লিখে আইডি ট্যাগ বা জিপিএস ট্রাকার লকেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রাণী ফিরে এলে ভেটেরিনারিয়ানের কাছে পরীক্ষা করান এবং তিরস্কার এড়িয়ে ভালোবাসা দিন। ধৈর্য ও কৌশল নিয়ে খোঁজ করলে ফেরত আসার সম্ভাবনা থাকে।

সর্বশেষ