কনকনে ঠাণ্ডা আর কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে গেলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তাঁর মৃত্যুর সংবাদে মুহূর্তেই দেশজুড়ে শোক ছড়িয়ে পড়ে। এভারকেয়ার হাসপাতালে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন পুত্র তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচদিনের মাথায় মায়ের এই চিরবিদায়ের সংবাদে মুষড়ে পড়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সারাজীবনে এই দিনটি হয়তো তিনি চাননি।
স্মৃতিতে ভেসে আসে বাবা জিয়াউর রহমানকে হারানোর পর মা যখন রাজপথে নামেন তখন তাঁর পাশেই ছিলেন অল্পবয়সী তারেক রহমান। রাজনীতির নিষ্ঠুর আঘাতে তারেক রহমানকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল সইতে হয়েছে অকথ্য নির্যাতন। ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সময়ও পাশে থাকতে পারেননি তিনি। এরপর তিন বছরের মাথায় মা কারাগারে গেলে জিয়া পরিবার আরও বড় সংকটে পড়ে। গণঅভ্যুত্থানের পর খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার মাধ্যমে নেতাকর্মীরা আশা করেছিলেন তাঁদের নেত্রী আবার ফিরে আসবেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে নিয়ে শঙ্কা জাগলে দেশ-বিদেশের চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু হয়তো বিধাতার ইচ্ছা ছিল তাঁর বিদায় হবে দেশের মাটিতেই কারণ খালেদা জিয়ার আজীবনের প্রতিজ্ঞা ছিল তিনি দেশের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যাবেন না। তিনি হয়তো অপেক্ষা করছিলেন প্রিয় পুত্র তারেক রহমানের রাজসিক প্রত্যাবর্তনের জন্য। দেশজুড়ে উপচেপড়া ঢল আর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ছেলে ফিরলেও পাঁচদিনের মাথায় আবারও পরিবার হারানোর বেদনায় সিক্ত হলেন তারেক।
১৯৮১ সালে পিতাকে হারিয়ে ভাই ও মায়ের সাথে দেশ গড়ার লড়াইয়ে শামিল হয়েছিলেন তারেক। কিন্তু পথিমধ্যে ভাইকে হারিয়েছেন এবং আজ হারালেন মাকেও। মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বাবা বা ভাই হারানোর শোক ভুলতে চাওয়া তারেক আজ আক্ষরিক অর্থেই একা হয়ে পড়লেন। তবে বিদায়বেলায় খালেদা জিয়া হয়তো ছেলেকে এই বার্তাই দিয়ে গেছেন যে শত প্রতিকূলতার মাঝেও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যেতে হবে। একা হয়ে পড়া তারেক রহমানের জন্য এই বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়া সহজ নয় তবুও দেশ ও মানুষের স্বার্থে লড়াই তাঁকে চালিয়ে যেতে হবে।



