১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরকারি খরচে আইনজীবী পাচ্ছেন কাদের-সাদ্দামসহ শীর্ষ ৭ নেতা

৮ জানুয়ারি ২০২৬

জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত নেতার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৮ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২-এর দুই সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ। অপর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার সাত আসামির আত্মসমর্পণের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য থাকলেও তারা কেউই আদালতে উপস্থিত হননি। এ কারণে আদালত তাদের পলাতক হিসেবে বিবেচনা করেন। পরবর্তীতে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত প্রতিরক্ষা আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া যেসব ছয় নেতা সরকারি খরচে আইনজীবী পাচ্ছেন, তারা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর এই সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডে নির্দেশ দেওয়া, প্ররোচনা ও উসকানির অভিযোগ আনা হয়।

পরে ২৯ ডিসেম্বর তাদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন নির্ধারিত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর আদালত সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন এবং বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়। নির্ধারিত দিনে অভিযুক্তরা অনুপস্থিত থাকায় বিধি অনুযায়ী স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সর্বশেষ