প্রকৃতি কি বড় কোনো মহাদুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা দিচ্ছে তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হওয়ার আগেই ১০ বার কেঁপে উঠল বাংলাদেশের মাটি। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হওয়া ৫.৩ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনটি সেই শঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন মাটির নিচের এই অস্থিরতা জনপদের জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত হতে পারে কারণ ঘনঘন এই ছোট-মাঝারি কম্পনগুলো বড় কোনো ভূমিকম্পের ফোর-শক বা সাবধানী সংকেত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
চলতি ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে প্রথম ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় যার উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটে। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার সীমান্ত ও সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কম্পন অনুভূত হয়। ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে ৫.১ ও ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল। সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা থেকে ২৯ কিলোমিটার দূরে ৫.৩ মাত্রার জোরালো কম্পন অনুভূত হয় যার গভীরতা ছিল মাত্র ৯.৮ কিলোমিটার। ঘন ঘন এই ভূমিকম্পের ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।



