১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে ইরানজুড়ে সমন্বিত সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানকে ‘আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, এই হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু তেহরানে অবস্থিত ইরানের প্রেসিডেন্ট ভবন। এছাড়াও দেশটির শীর্ষ নেতাদের বাসভবন এবং যেসব সামরিক সাইট থেকে ইসরায়েলে আক্রমণ চালানো হতে পারে, সেগুলোকে লক্ষ্য করে নিখুঁত নিশানায় হামলা চালানো হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারগুলো ধ্বংস করতে অত্যাধুনিক গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের কড়া বার্তা ও সামরিক পদক্ষেপ

এই অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জেনেভায় তৃতীয় দফা আলোচনা শেষে ইরানের আচরণে সন্তুষ্ট নন জানিয়ে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে রাজি নয়। কিছু পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তি ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়ে।” এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানের আকাশে হামলা শুরু হয়।

ইসরায়েলের অবস্থান ও রেড অ্যালার্ট

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর বিদ্যমান ঝুঁকি ও আসন্ন হুমকি চিরতরে দূর করার উদ্দেশ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো ইসরায়েলজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে আইডিএফ (IDF)।

ইরানের পরিস্থিতি

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো তেহরানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ নিশ্চিত করলেও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি। এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর জুনেও আমেরিকা ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল।

সর্বশেষ

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬