ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন এক বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক রাডার এএন/এফপিএস-১৩২ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই রাডারটি ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও নজরদারি করতে সক্ষম ছিল।
আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, একটি নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই রাডারটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি, তবে কাতারি কর্মকর্তাদের বরাতে এই ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক সত্যতা দাবি করছে ইরান। যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বিশাল বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হবে।
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি:
- অপারেশনের নাম: ইসরায়েল এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং যুক্তরাষ্ট্র একে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ হিসেবে অভিহিত করছে। জবাবে ইরান শুরু করেছে ‘অপারেশন ট্রু প্রোমিস ৪’।
- হতাহতের সংখ্যা: ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ৭৮০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
- নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি: তেহরানে চালানো হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়িসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর সংঘাত আরও তীব্রতর হয়েছে।
- পাল্টা হামলা: ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেও অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান—উভয় পক্ষই এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।



