২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভোলার আড়াই’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট, নেই খাজনা-চাঁদা

২৫ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভোলাজুড়ে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার দেড় শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এবং অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ভোলা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘গজারিয়া পশুর হাট’। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মিয়া বাড়ির দরজার হাট’ নামেই বেশি পরিচিত।

প্রায় আড়াই শ বছরের পুরোনো এই পশুর হাটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— এখানে ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা, কারও কাছ থেকেই কোনো ধরনের টোল, খাজনা বা চাঁদা নেওয়া হয় না!

প্রতি হাটে কেনাবেচা কয়েক কোটি টাকা

ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গজারিয়া বাজারসংলগ্ন বালিয়া মিয়া বাড়ির সামনের খোলা মাঠে সপ্তাহে তিন দিন এই হাট বসে। কোনো অতিরিক্ত খরচ না থাকায় ঈদ উপলক্ষে জেলার চরফ্যাশন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, দৌলতখান, চরপাতা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশি জাতের গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে আসছেন খামারি ও বিক্রেতারা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিদের দাবি, প্রতিটি হাটে এখানে কয়েক কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হয়ে থাকে।

খাজনা না থাকায় বিক্রেতা ও ক্রেতারা খুশি

হাটে গরু নিয়ে আসা লোকমান হোসেন নামের এক বিক্রেতা বলেন, “গজারিয়া বাজার ভোলার ঐতিহ্যবাহী কোরবানির পশুর হাট। এখানে কোনো দালাল নেই, খাজনাও লাগে না। তাই গরু বিক্রি করে পুরো টাকাটাই হাতে পাই।”

মাহফুজ নামের এক খামারি জানান, “অন্য হাটে একটি গরু বিক্রি করলে লাখে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খাজনা দিতে হয়। এখানে খাজনা না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই সরাসরি লাভবান হচ্ছেন।”

যেভাবে শুরু হয়েছিল এই খাজনামুক্ত হাট

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই খাজনামুক্ত পশুর হাটের পেছনে রয়েছে আড়াই শ বছর আগের এক আত্মসম্মানের ইতিহাস। মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর চাচাতো ভাই জামাল মিয়া জানান, তাদের পূর্বপুরুষ আরব আলী মিয়া একসময় দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বাংলাবাজার খাষেরহাটে কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে খাজনা আদায়কারীদের দ্বারা চরম হয়রানির শিকার হন। পরে বিষয়টি আত্মসম্মানে লাগায় তিনি নিজেদের বাড়ির সামনের মাঠে এই খাজনামুক্ত পশুর হাট চালু করেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বংশপরম্পরায় হাটটি বিনা খাজনায় পরিচালিত হয়ে আসছে।

পশু কেনাবেচার এক অনন্য উদাহরণ

বাংলাদেশে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর শত শত পশুর হাট বসলেও অধিকাংশ হাটেই টোল, অবৈধ চাঁদা ও দালালচক্রের কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাড়তি ভোগান্তি ও খরচ গুনতে হয়। সেই জায়গায় গজারিয়ার এই খাজনামুক্ত পশুর হাট স্বচ্ছ ও ন্যায্যমূল্যে পশু কেনাবেচার একটি অনন্য ও ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঐতিহ্যবাহী হাটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা গেলে কোরবানির পশু বেচাকেনা আরও নিরাপদ ও আধুনিক করা সম্ভব।

সর্বশেষ