রাজধানীর বাজারে সুগন্ধি ও পোলাওর চালের দামে আগুন লেগেছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মানভেদে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। রাজধানীর খুচরা বাজারে আগে যে চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়।
শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে চালের মূল্যের এই অস্বাভাবিক চিত্র দেখা গেছে। পাইকারি বাজারে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ৫০ কেজির ভালো মানের চিনিগুঁড়া চালের বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা।
ব্যবসায়ীরা চালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি, বাজারে চরম সরবরাহ সংকট এবং চলতি মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন। তবে ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সুযোগ নেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কেন বাড়ছে চালের দাম?
চালের পাইকারি বিক্রেতারা জানান, প্রবাসীদের মাঝে সুগন্ধি চালের বাড়তি চাহিদা থাকায় চাল রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই সুযোগে বাজারে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী চাল অবৈধভাবে মজুদ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বাবুবাজারের সুগন্ধি চালের ব্যবসায়ী সিফাত সরকার জানান, বর্তমানে ভালো মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫০ কেজির বস্তা ১০ হাজার থেকে ১০ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন:
“বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চলতি বছর রপ্তানির পরিমাণ বাড়ায় দেশীয় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া ধানের ফলন কিছুটা কম হওয়া, কয়েকটি এলাকায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আগে নওগাঁসহ বিভিন্ন মোকাম থেকে সহজেই চাল পাওয়া গেলেও এখন সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় এবং দামও অনেক বেশি।”
তবে তিনি আরও জানান, এই সংকট মূলত সুগন্ধি বা পোলাওর চালের ক্ষেত্রে। বাজারে সিদ্ধ চালের পরিস্থিতি এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
রপ্তানি বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সম্রাট শেখ বলেন, “বাজারে পোলাওর চালের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। সরকার রপ্তানির সুযোগ করে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা দেশীয় বাজারের পরিবর্তে রপ্তানিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এক মাস আগেও যে চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি, এখন সেটিই পাইকারিতে ২০২ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে।”
তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চাল রপ্তানি বন্ধ করা হলে মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে আসতে পারে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও রপ্তানির কারণে সৃষ্টি হওয়া এই সংকট এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চালের কেজি ২৫০ টাকায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
যা বলছেন ভোক্তা অধিকার কর্মীরা
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান মন্তব্য করেছেন, বাজারে চালের কোনো ঘাটতি নেই। অতি মুনাফা লোভার উদ্দেশ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই দাম বাড়াচ্ছেন।
উল্লেখ্য, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দফায় মোট ২৩ হাজার ৯৫৯ টন সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।



