পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে লাগবে আরও সময়, আসছে ৭ পৃথক এসআরও

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ পর্যায়ে থাকলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন হাতে পেতে সরকারি কর্মচারীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এবার একটি মাত্র প্রজ্ঞাপনের বদলে সাতটি পৃথক এসআরও (স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অর্ডার) জারি করা হবে। ফলে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, ফিক্সেশন ও ভাতার বিষয়গুলো আলাদাভাবে নির্ধারণ করতে গিয়ে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পে-স্কেল মূল সিদ্ধান্তের জায়গায় আটকে নেই। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এই সময় লাগছে। প্রস্তুতকৃত খসড়া ফাইল আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) শেষে বিজি প্রেসে পাঠানো হবে, যার পরপরই এসআরও জারি করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কিছু ভাতা নিয়ে অর্থ বিভাগের সাথে সমন্বয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে-স্কেল সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করছি যাতে দ্রুত প্রজ্ঞাপন দেওয়া যায়। তবে সাতটি পৃথক এসআরও জারি করার প্রক্রিয়ার কারণে সময় কিছুটা বেশি লাগছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। গেজেট প্রকাশের পর বকেয়া পাওনা ও বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে, তাই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।”

সাত শ্রেণির জন্য পৃথক এসআরও নবম পে-স্কেলের আওতায় যেসব সাতটি আলাদা খাত বা শ্রেণির জন্য পৃথক নির্দেশিকা থাকবে:

  • বেসামরিক প্রশাসন: সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।
  • পুলিশ বিভাগ: পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা।
  • বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি): সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা।
  • ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সরকারি ব্যাংক ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের কাঠামো।
  • স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান: বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান।
  • সশস্ত্র বাহিনী: সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য পৃথক নির্দেশিকা।
  • বিচার বিভাগ: বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও বিচারকদের কাঠামো।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়, যা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন দ্বিগুণ এবং ২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সব গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতা এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গেজেট প্রকাশিত হলেই প্রায় ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীর বেতন ফিক্সেশন এবং বকেয়া পাওনার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

সর্বশেষ