বাংলা কিউআরে বাড়ছে লেনদেন, সপ্তাহে ছাড়াল ৭০০ কোটি টাকা

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘এক দেশ, এক কিউআর’ নীতি বাস্তবায়নের পর দেশে ডিজিটাল লেনদেনে ইতিহাস গড়ছে ‘বাংলা কিউআর’। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে, যা সপ্তাহে ছাড়িয়ে গেছে ৭০০ কোটি টাকার ঘর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত চালুর পর থেকে চালকের আসনে থাকা এই মাধ্যমটি ক্ষুদ্র ও বড় ব্যবসায়ীদের কেনাবেচায় অভূতপূর্ব গতি এনে দিয়েছে।

ঝড়ের গতিতে বাড়ছে লেনদেন ও মার্চেন্ট সংখ্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো, যার আর্থিক মূল্য ছিল ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। কিন্তু আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এসে দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে এবং লেনদেনের পরিমাণ একলাফে প্রায় তিন গুণ বেড়ে পৌঁছেছে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায়।

একই সঙ্গে ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যায় বড় ধাক্কা এসেছে। গত ২১ জুলাই যেখানে এ ব্যবস্থার আওতায় নিবন্ধিত ব্যবসায়ী ছিলেন ১৬ লাখ, আগস্টে তা দ্রুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখের বেশিতে। শপিংমল, বড় শোরুম থেকে শুরু করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র দোকানদাররা এখন একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করছেন।

মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবনা বাংলা কিউআরের এই জোয়ার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, লেনদেনের এই ইতিবাচক গতি ধরে রাখাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য। মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) বা লেনদেন ফি নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মনে যে দ্বিধা ছিল, সে বিষয়ে তিনি জানান, ক্যাশলেস পেমেন্ট সুবিধার কারণে বিক্রি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এই ফি সহজ করতে ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে, যা ঘোষণার পর লেনদেনের গতি আরও বেগবান হয়েছে।

ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি আগে বিভিন্ন ব্যাংক বা এমএফএস (বিকাশ, রকেট, নগদ) সেবার জন্য আলাদা কিউআর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হতো। ‘বাংলা কিউআর’ চালুর ফলে এখন একটিমাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করেই গ্রাহকরা তাঁদের যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা এমএফএস ওয়ালেট থেকে সহজেই বিল পরিশোধ করতে পারছেন।

সাধারণ গ্রাহক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে—

  • ঝুঁকিমুক্ত লেনদেন: নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমেছে, বিশেষ করে দূরে ভ্রমণকারী পাইকারি ক্রেতাদের ক্ষেত্রে।
  • খুচরা টাকার ঝামেলার অবসান: ছোট ও মাঝারিমানের ব্যবসায়ীরা সারাদিন খুচরা টাকার সংকট ছাড়াই লেনদেন নিষ্পত্তি করতে পারছেন।

সব মিলিয়ে, অভিন্ন কিউআর ব্যবস্থা কেবল সহজ লেনদেন সুনিশ্চিত করছে না, বরং দেশের সাধারণ মানুষকে খুব দ্রুত একটি স্থায়ী ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ