উত্তর কোরীয়দের মুখে হাসি ফোটাতে কিমের যত উদ্যোগ

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একদিকে ইস্পাত-কঠিন শাসন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক দুর্দশা—দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববাসী উত্তর কোরিয়াকে একটি নীরস ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের দেশ হিসেবেই দেখে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই দৃশ্যপটে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। ব্যক্তিগত বিলাসিতা ও বিনোদনের সুযোগ বাড়িয়ে নাগরিকদের জীবনযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করার উদ্যোগ নিয়েছেন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন।

বিলাসবহুল পণ্য ও বিনোদন অবকাঠামো

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে আমোদ-প্রমোদের নানা সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। বিগত এক দশকে চীন থেকে উত্তর কোরিয়ায় ম্যাসাজের সরঞ্জাম আমদানি বেড়েছে প্রায় ৪০ গুণ এবং ট্রেডমিলের সরবরাহ বেড়েছে ৬০০ শতাংশের বেশি। এছাড়া পিয়ানো থেকে শুরু করে বিনোদন পার্কের বাম্পার কারও আমদানি করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণে।

একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং সহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিলাসবহুল শপিং মল, বিচ রিসোর্ট ও স্কি করার জন্য অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। গত বছর রাজধানীতে চালু হওয়া ‘রাংনাং অ্যায়েগুক কুমগাং সার্ভিস কমপ্লেক্স’-এর মতো আধুনিক মলে নাগরিকদের ক্যাপুচিনো কফি পান ও গৃহস্থালি পণ্য কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

জাতিসংঘের কঠোর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে নাগরিক সেবার পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা গত তিন বছর ধরে গড়ে ৩ শতাংশের উপরে বজায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিকদের জন্য এসব বিনোদন ও সেবামূলক ব্যবস্থা চালুর পেছনে কিম জং উনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে খুচরা ব্যবসা ও বিনোদনকেন্দ্র পরিচালনা করার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ অনানুষ্ঠানিক বাজারগুলোর প্রভাব কমিয়ে সমস্ত অর্থপ্রবাহ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙা রাখা এবং নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির এই কৌশল কত দূর কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সর্বশেষ