দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের দেশ পর্তুগালে হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে টিকে রয়েছে শত শত প্রাচীন জলপাই গাছ। শুধু বেঁচে থাকা নয়, যুগের পর যুগ পার করে এসব গাছের অনেকগুলো এখনও নিয়মিত ফল দিচ্ছে। গবেষকদের মতে, দেশটির বেশ কয়েকটি জলপাই গাছের বয়স দুই থেকে পৌনে চার হাজার বছরেরও বেশি।
পর্তুগালের ‘ইউনিভার্সিটি অব ট্রাস-ওস-মন্টেস অ্যান্ড আল্টো দৌরো’ (ইউটিএডি) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব অবিশ্বাস্য প্রাচীন গাছের তথ্য উঠে এসেছে।
সবচেয়ে পুরোনো কয়েকটি জলপাই গাছ:
- অলিভেইরা দো পেসো: বেজা জেলার ভিডিগুেইরার হারদাদে দো পেসো এস্টেটে অবস্থিত এই গাছটির বয়স ৩ হাজার ৭০০ বছরেরও বেশি। এটি ২০২৪ সালের পর্তুগিজ ‘ট্রি অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
- অলিভেইরা দো মুচাও: আব্রান্তেস পৌরসভায় অবস্থিত ৩ হাজার ৩৫০ বছরের পুরোনো এই গাছটি ফিনিশীয়, সেল্টিবেরীয় ও রোমান সভ্যতার সমসাময়িক। এটি ২০২২ সালের ইউরোপিয়ান ‘ট্রি অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় পঞ্চম হয়।
- অন্যান্য: সান্তা ইরিয়া দে আজোয়ায় রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৫০ বছরের পুরোনো একটি জলপাই গাছ। এছাড়া মনসারাজ, এস্ত্রেমোজ, লাগোয়া, বেজা ও পোর্তোর সেরালভেস পার্কসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বহু হাজার বছরের পুরোনো গাছ রয়েছে।
হাজার বছর ধরে বেঁচে থাকার রহস্য: গবেষকদের মতে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, তীব্র খরা ও গরম সহ্য করার ক্ষমতা এবং দ্রুত পুনরুজ্জীবিত হওয়ার বৈশিষ্ট্যই এদের দীর্ঘজীবনের মূল কারণ। কাণ্ডের কোনো অংশ নষ্ট হয়ে গেলেও সেখান থেকে নতুন কুঁড়ি ও শাখা গজায়, ফলে গাছ নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
যেভাবে নির্ধারণ হয় বয়স: ইউটিএডির গবেষক হোসে লুইস লুজাডা উদ্ভাবিত ও পেটেন্ট করা একটি বিশেষ গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব গাছের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে গাছের কাণ্ডের ব্যাস, উচ্চতা ও পরিধি বিশ্লেষণ করা হয়। এই প্রযুক্তি বর্তমানে স্পেন ও ফ্রান্সেও ব্যবহৃত হচ্ছে।



