বেরিয়ে আসছে ইউনূস সরকারের লুটতন্ত্রের ইতিবৃত্ত

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৪-এর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সুশীল সমাজের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশজুড়ে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, তা মাত্র দেড় বছরেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত দেশের আশ্বাস দেওয়া হলেও ইউনূস সরকারের এই শাসনকাল পরিণত হয়েছিল চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও রেকর্ড পরিমাণ দুর্নীতির অধ্যায়ে। নতুন পুনর্গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে সম্প্রতি আসা নথিপত্র থেকে বের হয়ে আসছে এই সরকারের সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের দুর্নীতির নানা ভয়াবহ চিত্র।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে সম্মিলিতভাবে দুর্নীতির আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি।

দুদকের তদন্তে উঠে আসা প্রধান প্রধান অভিযোগ ও জড়িতদের তালিকা:

  • আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: সাবেক এই ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দুদক। তার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে—যার মধ্যে রয়েছে দুবাইয়ে ৪,৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩,০০০ কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২,০০০ কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১,৫০০ কোটি টাকা। এছাড়াও পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ের ‘গ্রিন গ্রুপে’ বিনিয়োগ ও আত্মস্বজনদের মাধ্যমে অর্থ পাচারের তথ্য দুদকের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
  • ড. মুহাম্মদ ইউনূস: প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে আমেরিকা, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে—এই চার দেশে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নরওয়েতে গ্রামীণফোনের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ‘টেলিনর’ থেকে তার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে ৩৭৪ কোটি টাকা জমার লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
  • আসিফ নজরুল: সাবেক এই বিচার ও আইন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের এক ডজন অভিযোগ রয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার, বিচারক ও আইন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং বদলি ও জামিন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি সুইস ব্যাংকে হিসাব খোলা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় বেনামে বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনার অভিযোগও করা হয়েছে।
  • সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: ৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নথিতে উল্লেখ করা হয়, তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকী ও তিনি অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে দুবাই ও লন্ডনে নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন।
  • নুরজাহান বেগম: এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের নিকটাত্মীয়ের নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বিলাসবহুল বাড়ি কেনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে।

সুইস ব্যাংকে আমানতের উল্লম্ফন

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ইউনূস সরকারের আমলেই সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ এক বছরে প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ, যা ২০২৫ সাল শেষে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে।

ইতিমধ্যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে দৃশ্যমান তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করেছে দুদক। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি পরিচয়ে ক্ষমতায় এসে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের এই মহামারী তদন্তে কমিশন শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে কাজ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের সাধারণ জনগণ।

সর্বশেষ