১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাপানি দম্পতিরা বিরোধের সময়ও যেভাবে শান্ত থাকেন

যতই ভালোবাসা থাকুক, দুজন মানুষের মধ্যে মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এই কলহ যখন তিক্ততায় রূপ নেয়, তখন সম্পর্কের মাধুর্য হারিয়ে যায়, এমনকি বিচ্ছেদও ঘটতে পারে। জাপানি দম্পতিরা এই ধরনের বিরোধ মেটাতে একটি বিশেষ জীবনপদ্ধতি অনুসরণ করেন, যার নাম ‘মা’ (Ma)। এই পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে এটি আপনার দাম্পত্য জীবনে কাজে লাগাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. টুম্পা ইন্দ্রানী ঘোষ।

‘মা’ পদ্ধতি আসলে কী?

সহজ কথায়, ‘মা’ হলো কথোপকথনের মাঝে একটি সচেতন বিরতি বা নীরবতা। যখন কোনো বিষয়ে সঙ্গীর সাথে উত্তেজনা তৈরি হয়, তখন তর্কের পিঠে তর্ক না করে মুহূর্তের জন্য চুপ হয়ে যাওয়াই হলো এই পদ্ধতির প্রয়োগ। এটি কেবল সাধারণ চুপ থাকা নয়, বরং নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে সুন্দরভাবে প্রকাশের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার একটি প্রক্রিয়া।

কেন এই পদ্ধতি কার্যকর?

১. আবেগ নিয়ন্ত্রণ: রাগের মাথায় আমরা এমন কথা বলে ফেলি, যার জন্য পরে আফসোস করতে হয়। ‘মা’ পদ্ধতি এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করে। ২. পারস্পরিক সম্মান: বিরতি নিলে কণ্ঠস্বর শান্ত থাকে এবং নিজের কষ্টের কথাটি সঙ্গীকে স্পষ্টভাবে বোঝানো যায়। এতে অপর পক্ষ বুঝতে পারে যে আপনি জিততে নয়, বরং শান্তি চান। ৩. তড়িৎ সমাধান: নীরবতার সময় অপর পক্ষের যুক্তির পেছনে কোনো সঠিক কারণ আছে কি না, তা ভেবে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

কীভাবে চর্চা করবেন?

ঝগড়ার মাঝে হুট করে চুপ হয়ে গেলে অনেক সময় সঙ্গীর কাছে তা নেতিবাচক বা এড়িয়ে যাওয়ার মতো মনে হতে পারে। তাই এই পদ্ধতি চর্চার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:

  • ইতিবাচক বডি ল্যাঙ্গুয়েজ: চুপ থাকার সময় ভ্রু কুঁচকে বা বিরক্তি নিয়ে থাকবেন না। আপনার শরীরী ভাষা যেন শান্ত ও ইতিবাচক হয়।
  • সময় চেয়ে নিন: সঙ্গী যদি আপনার নীরবতায় অস্থির হয়ে পড়েন, তবে তার কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নিন। তাকে বুঝতে দিন যে আপনি পরিস্থিতি শান্ত করার জন্যই বিরতি নিচ্ছেন।
  • সুন্দর মুহূর্ত স্মরণ করুন: নীরবতার সেই মুহূর্তে নিজেদের কোনো সুখের স্মৃতি মনে করুন। এতে শরীর ও মন শিথিল হবে এবং রাগ প্রশমিত হবে।
  • কোমল স্বরে কথা শুরু: বিরতি শেষে যখন পুনরায় কথা বলবেন, তখন স্বর কোমল রাখুন। যুক্তির চেয়ে অনুভূতি প্রকাশে গুরুত্ব দিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতির নিয়মিত চর্চা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়াকে আরও জোরালো করে এবং সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি করে।

সর্বশেষ