৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তাজু ভাই ২.০: জিলাপির দাম নিয়ে ভাইরাল হয়ে রাতারাতি পরিচিতি

৩১ মার্চ ২০২৬

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যন্ত এক চরাঞ্চলের যুবক তাইজুল ইসলাম (৩০)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এ পরিচয়কে ছাপিয়ে বর্তমানে তিনি ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে বেশি পরিচিত। এই নামেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর একটি পেজ রয়েছে। এবারের মহান স্বাধীনতা দিবসে স্থানীয় একটি বাজারে জিলাপির দাম নিয়ে করা সেই পেজের একটি ভিডিও তাঁকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।

২৬ মার্চ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে ওই ভিডিও ধারণ করেন তাইজুল। এতে দেখা যায়, তাইজুল ইসলাম দোকানিকে জিজ্ঞাসা করছেন, জিলাপি কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তা কি সরকারি দরের সঙ্গে মিলছে। সরল ও ভাঙা ভাঙা এ সংলাপই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। কয়েক দিনের মধ্যেই ভিডিওটির ভিউ হয়েছে প্রায় ৫৯ লাখ (আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত)।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার আগে ‘তাজু ভাই ২.০’ ফেসবুক পেজের অনুসারী ছিল প্রায় ছয় হাজার। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন লাখে। কেউ তাঁর ব্যতিক্রমী উপস্থাপনাকে নিখাদ বিনোদন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ব্যঙ্গবিদ্রূপও করছেন। তবে আলোচনা-সমালোচনায় থাকা মানুষটির জীবনবাস্তবতা ভিন্ন।

তাইজুলের বাড়ি নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে। ছয় ভাই–বোনের সংসারে সবার বড় এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। অভাব-অনটনের কারণে কখনো বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়নি।

সর্বশেষ রাজধানীতে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এই কাজের ফাঁকে শখের বশে গ্রামে ফিরে মুঠোফোনে ধারণ করতেন নানা ভিডিও। তাইজুলের বক্তব্য, ‘আমার মা–বাবা অসুস্থ, দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখকষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি কোনো সাংবাদিক না।’

এই তরুণের দাবি, ভিডিও করার পেছনে আরেকটি উদ্দেশ্যও আছে, সেটি হলো নিজ চরাঞ্চলের মানুষের কথা, দুঃখ–দুর্দশা ইত্যাদি তুলে ধরা। জেলা শহরের সাংবাদিকেরা তাঁর এলাকায় তেমন যান না। তিনি চান, তাঁর ভিডিওর মাধ্যমে বাইরের মানুষ এলাকাটির খবর জানুক।

সর্বশেষ