৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আলোচনায় থাকা কে এই আরিফ মোহাম্মদ?

৮ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে কূটনৈতিক পাড়ায় জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, এবার কোনো পেশাদার কূটনীতিক নয়, বরং একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বাংলাদেশে পাঠাতে পারে দিল্লি। এই দৌড়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম বিহারের সদ্য সাবেক রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খান

কেন এই পরিবর্তন?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউইন্ডিয়ান মান্দারিনস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে। ফলে ঢাকার শূন্য পদের জন্য আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

আরিফ মোহাম্মদ খানের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার

আরিফ মোহাম্মদ খান ভারতীয় রাজনীতির একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তার পরিচিতি একনজরে:

  • রাজনৈতিক পথচলা: ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা কংগ্রেসসহ একাধিক সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভারতের সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিজেপির রাজনীতির সাথে যুক্ত।
  • রাজ্যপালের দায়িত্ব: তিনি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কেরালার এবং সর্বশেষ ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিহারের রাজ্যপাল (গভর্নর) হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • শিক্ষাজীবন: ১৯৫১ সালে বুলন্দশহরে জন্ম নেওয়া আরিফ খান দিল্লির জামিয়া মিলিয়া স্কুল, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।
  • সংস্কৃতি ও সংস্কার: তিনি বিখ্যাত বন্দনাগীতি ‘বন্দে মাতরম’ উর্দুতে অনুবাদ করেছিলেন। ভারতে মুসলিম সমাজের সংস্কারের পক্ষে তিনি সবসময়ই সোচ্চার অবস্থান নিয়েছেন।

নিয়োগ নিয়ে কৌতুহল

একজন হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কেন পেশাদার কূটনীতিকের বদলে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে খোদ ভারতের গণমাধ্যমগুলোতেই নানা বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি তিনি নিযুক্ত হন, তবে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রার যোগ হতে পারে।

আরিফ মোহাম্মদ খানের মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে ভারতের প্রতিনিধি হয়ে এলে তার পদমর্যাদা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি কী হবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ