৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শিক্ষা দিতে চাওয়া’ কে এই আলী লারিজানি?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ি এবং আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার পর তেহরানের শাসনক্ষমতায় এখন সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখ হয়ে উঠেছেন ৬৬ বছর বয়সী আলী লারিজানি। এক সময় পশ্চিমা দর্শনে ডক্টরেট করা এবং ইমানুয়েল কান্টের ওপর বই লেখা এই ‘বাস্তববাদী’ নেতা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং খামেনেয়ি-পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী পর্ষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

লারিজানির পরিচয় ও রাজনৈতিক জীবন:

  • বিখ্যাত পরিবার: লারিজানি ইরাকের নাজাফে এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যাকে ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ বলা হয়। তাঁর বাবা ছিলেন প্রখ্যাত ধর্মীয় পণ্ডিত এবং তাঁর ভাইয়েরাও শাসনব্যবস্থার উচ্চপদে আসীন।
  • শিক্ষাজীবন: তিনি শরিফ ইউনিভার্সিটি থেকে গণিত ও কম্পিউটার প্রকৌশলে স্নাতক এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পশ্চিমা দর্শনে পিএইচডি করেছেন। তাঁর পড়ালেখা মূলত ধর্মনিরপেক্ষ ধারার।
  • দীর্ঘ ক্যারিয়ার: লারিজানি আইআরজিসির সদস্য ছিলেন, পরবর্তীতে সংস্কৃতিমন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় প্রচার সংস্থা আইআরআইবির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন।
  • পারমাণবিক সমঝোতা: ২০১৫ সালের বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) অনুমোদনে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন।

বর্তমান কঠোর অবস্থান:

হামলার আগে লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও খামেনেয়ি নিহত হওয়ার পর তাঁর সুর বদলে গেছে। তিনি ঘোষণা করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী গোষ্ঠী ইরানিদের হৃদয়ে যে আগুন জ্বালিয়েছে, আমরা তাদের হৃদয় পুড়িয়ে দেব।” লারিজানি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলার ইচ্ছা না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটিকে ইরান লক্ষ্যবস্তু করবে। ট্রাম্পকে ‘ইসরায়েলি ফাঁদে’ পড়া নেতা হিসেবে অভিহিত করে লারিজানি এখন তেহরানের নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের মূল দায়িত্বে রয়েছেন।

সর্বশেষ