৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘আর্টেমিস-২’ মিশন নিয়ে প্রথম তথ্য প্রকাশ করল আমিরাত

৫ এপ্রিল ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি হাবের এর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ‘আর্টেমিস-২’ মহাকাশযান পর্যবেক্ষণ করেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি রেকর্ড করা হয়। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা তাদের ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের মাধ্যমে ৫৩ বছরের বেশি সময় পর আবারও চারজন নভোচারীকে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে। এই মিশনটি বর্তমানে চাঁদের পথে রয়েছে।

চার সদস্যের এই দলে তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডীয় নভোচারী রয়েছেন। তারা ১ এপ্রিল অরিয়ন স্পেসক্র্যাফ্ট ক্যাপসুল ও স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটে করে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিশন মানবজাতির চাঁদ অভিযানে নতুন করে গতি সঞ্চার করবে। যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এই কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।

১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এই যাত্রায় তারা মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়বেন বলে আশা করা হচ্ছে।

‘আর্টেমিস-২’ মিশনটি ভবিষ্যতে চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে প্রথম নারী এবং প্রথম বর্ণগত সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে চাঁদে অবতরণ করানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযান পরিচালনার পথও সুগম করবে এই কর্মসূচি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপলো-১৭ মিশনের মাধ্যমে মানুষ চাঁদে অবতরণ করেছিল। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে আবারও চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এদিকে, ২০২০ সালে ইউএই স্পেস এজেন্সি ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’-এ সই করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সহযোগিতায় যুক্ত হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদে টেকসই মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করছে দেশটি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যেই মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০১৯ সালে হাজ্জা আলমানসুরি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) যাত্রা করে প্রথম আমিরাতি নভোচারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।

সর্বশেষ