ভারতে আবারও মসজিদকে মন্দির ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক, উদ্বেগে মুসলিমরা

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার শহরের ঐতিহাসিক কামাল মাওলা মসজিদ বা ভোজশালা কমপ্লেক্সকে হিন্দু দেবীর মন্দিরস্থল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের হাইকোর্ট। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) দুই বছর আগের একটি জরিপের ভিত্তিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর মসজিদ চত্বরে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সেখানে দেবীর অস্থায়ী মূর্তি স্থাপন ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শুরু করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। আদালতের এই একতরফা রায়ে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে চলা এই বিতর্কে ২০০৩ সালের একটি চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুরা স্থানটি পরিদর্শন করতে পারতেন এবং প্রতি শুক্রবার মুসলিমরা সেখানে নামাজ আদায় করতেন। তবে নতুন রায়ে স্থানটিকে ‘বাগদেবী’র মন্দির ঘোষণা করায় মুসলিমদের দাবি খারিজ হয়ে গেছে। আদালতের এই রায়কে মুসলিম পক্ষের আইনজীবী আশহার ওয়ারসি ‘ত্রুটিপূর্ণ’ এবং ভারতের ‘উপাসনালয় আইন, 1991’-এর পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। মুসলিম পক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (আইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই রায়কে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন এবং এএসআই-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সমালোচক ও ইতিহাসবিদদের মতে, ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জ্ঞানবাপী মসজিদ ও শাহি ইদগাহ মসজিদের মতো ঐতিহাসিক মুসলিম উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রবণতা বাড়ছে, যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে হুমকির মুখে ফেলছে। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একে ‘হিন্দু সভ্যতার মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই’ হিসেবে দেখলেও, বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ইসলামভীতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সর্বশেষ