২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উত্তরের সমতলে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

১৭ মার্চ ২০২৬

দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে চায়ের আবাদ ও উৎপাদন দুই-ই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ মৌসুমে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরের পাঁচ জেলায় দুই কোটি দুই লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা এ অঞ্চলের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড। গত মৌসুমের তুলনায় এবার উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫৮.১ লাখ কেজি।

রেকর্ড উৎপাদনের পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, উত্তরের পাঁচ জেলায় (পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী) মোট ১১ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৮৯ একর জমিতে এবার চা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে:

  • সবুজ পাতা উত্তোলন: বাগানগুলো থেকে মোট ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ৬১১ কেজি কাঁচা পাতা সংগ্রহ করা হয়েছে।
  • তৈরি চা: পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের ৩১টি কারখানায় এই পাতা প্রক্রিয়াজাত করে দুই কোটি কেজির বেশি চা উৎপাদন করা হয়েছে।
  • কর্মসংস্থান: এই চা শিল্পের প্রসারে এ অঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

শীর্ষে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও

উৎপাদনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পঞ্চগড়। জেলার ৯ হাজার ৮১৯ একর জমি থেকে এক কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৬ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও জেলায় উৎপাদন হয়েছে ২৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬৪ কেজি। এছাড়া লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারীর চা পাতাও পঞ্চগড়ের কারখানাগুলোতে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

নতুন মৌসুমের শুরু ও বাজারদর

শীতের কারণে দুই মাস বন্ধ থাকার পর সমতলের বাগানগুলোতে আবারও চা পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে। বর্তমানে কাঁচা পাতার দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্ধারিত দর ২৮ টাকা হলেও বাগান মালিকরা প্রতি কেজি পাতা ৩৪ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ মৌসুম শুরু হলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা

বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আমির হাসান জানান, দেশের চা উৎপাদনে সমতলের এই অঞ্চল এখন দ্বিতীয় অবস্থানে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে আড়াই কোটি কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ