১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিদানি নিহত

১৭ মার্চ ২০২৬

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিদানি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তবে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি

ইসরায়েল টাইমসের বরাতে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে তেহরানে একযোগে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেন, “আলি লারিদানি এবং বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকে গত রাতের অভিযানে নির্মূল করা হয়েছে।” তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নিহত অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, লারিদানি ছাড়াও একই হামলায় বাসিজ আধা-সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানি এবং তার উপ-প্রধান সৈয়দ কারিশি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, তারা একটি অস্থায়ী তাবু এলাকায় অবস্থান করছিলেন যা শনাক্ত করা বেশ কঠিন ছিল।

ইরানের রহস্যময় নীরবতা

আলি লারিদানি নিহত হওয়ার বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম লারিদানির কার্যালয় থেকে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশের কথা জানিয়েছে, যা মূলত নৌবাহিনীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে লেখা। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, লারিদানি এবং তার ছেলে যে অ্যাপার্টমেন্টে আত্মগোপন করেছিলেন, সেখানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। লারিদানিকে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রভাবশালী এবং নীতিনির্ধারক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তার সম্ভাব্য মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে এক নতুন ও জটিল মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ