ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র একটি কঠোর ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। তবে ওয়াশিংটন বা তেহরান— কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
পরিকল্পনার প্রধান শর্তাবলি: প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও আল জাজিরা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ১৫ দফা প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
- পারমাণবিক স্থাপনা উচ্ছেদ: ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হবে এবং নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
- সামরিক সীমাবদ্ধতা: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
- নৌপথ উন্মুক্তকরণ: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি: বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং বেসামরিক পারমাণবিক গবেষণায় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও বর্তমান অবস্থা: নিউইয়র্ক টাইমস-এর দাবি অনুযায়ী, এই পরিকল্পনাটি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তান এই দুই দেশের মধ্যে প্রধান যোগাযোগকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, এই ১৫ দফা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্তত এক মাসের যুদ্ধবিরতি চাইছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি, তবে বিশ্বনেতারা এই সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছেন।


