ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সান্তোসের হয়ে সাম্প্রতিক এক ম্যাচে রেফারিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে যাচ্ছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। এই পরিস্থিতির কারণে আসন্ন বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যেখান থেকে বিতর্কের শুরু
রেমোর বিপক্ষে সান্তোসের ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে ৮৬তম মিনিটে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের কড়া ফাউলের শিকার হন নেইমার। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইওর কাছ থেকে উল্টো হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। কার্ডজনিত কারণে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে তার খেলা এমনিতেই নিষিদ্ধ হয়েছে, যা তাকে ফিট প্রমাণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করল।
রেফারির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য
ম্যাচ শেষে নেইমার রেফারির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “রেফারি ম্যাচের তারকা হতে চান, তিনি খেলোয়াড়দের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন এবং সবখানে শুধু নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে চান।” তবে তার মন্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিঙ্গ-অবমাননাকর হিসেবে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
৫ থেকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ জানিয়েছে, দেশটির কোড অব স্পোর্টস জাস্টিসের ২৪৩-জি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো বৈষম্যমূলক বা অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই ধারায় নেইমার দোষী সাব্যস্ত হলে ৫ থেকে ১০ ম্যাচ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হতে পারেন। ইতিপূর্বে একই অপরাধে অন্য এক খেলোয়াড়কে ১২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় নেইমারের ক্ষেত্রেও কঠোর সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা প্রবল।
বিশ্বকাপের স্কোয়াডে অনিশ্চয়তা
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে জায়গা পেতে হলে খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিট এবং নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লে নেইমার নিজেকে প্রমাণ করার মাঠের লড়াই থেকে ছিটকে যাবেন। ফলে জাতীয় দলে ফিরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তার জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।



