দেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং নাগরিক সেবা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সব বিমানবন্দর ও দূরপাল্লার ট্রেনে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই তথ্য জানান।
ইন্টারনেট সেবার বর্তমান অগ্রগতি
মন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে দেশের চারটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি ট্রেন চলাচল করে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে। এছাড়া দেশের সব বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনের পর এখন পর্যায়ক্রমে দূরপাল্লার সব ট্রেনে এই সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
পর্যটন ও উপকূলীয় নিরাপত্তা
বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কবার্তা দ্রুত পৌঁছে দিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালুর গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। এতে জলদস্যুতা প্রতিরোধ এবং জরুরি যোগাযোগ সহজ হবে।
ডিজিটাল রূপান্তর ও দক্ষতা উন্নয়ন
প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সম্প্রসারণ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে দক্ষ জনবল তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। তবে বিটিসিএলের সেবা নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যমান ভোগান্তি ও অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহেন আসিফ আসাদ।
উদ্বোধন ও পরিদর্শন
মতবিনিময় সভা শেষে বিকেলে মন্ত্রী কক্সবাজার সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন’ উদ্বোধন করেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহেন আসিফ আসাদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আব্দুন নাসের খান এবং পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।



