বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন তার দায়িত্বের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ করেছেন। এই স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে বুধবার (২২ এপ্রিল) এক ভিডিও বার্তায় তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় অর্জন: রাষ্ট্রদূত জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি দুদেশের বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং উভয় রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে। মার্কিন ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক অবস্থান: রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশে এসেছি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত রূপরেখা অনুযায়ী আমি এই সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে কঠোর পরিশ্রম করছি।” উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফলকে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য অংশীদারত্ব: ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন:
- নিরাপত্তা: অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিতে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদারত্ব এবং অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা জালিয়াতি মোকাবিলায় যৌথ কাজ।
- স্বাস্থ্য: যক্ষ্মা ও হামের মতো রোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন স্বাস্থ্য অংশীদারত্ব গঠন।
- রোহিঙ্গা সংকট: রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় বৃহত্তম দাতা দেশ হিসেবে পাশে থাকা এবং এই সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা।
সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা ও আতিথেয়তা: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনায় তিনি ও তার স্ত্রী অভিভূত। তিনি পহেলা বৈশাখের উৎসবে অংশ নিয়েছেন, ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করেছেন এবং স্থানীয় ব্লগারের সাথে নতুন সব খাবারের স্বাদ নিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত পরিশেষে বলেন, “প্রথম ১০০ দিন কেবল এই দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের যাত্রার সূচনা মাত্র।”



