ইরান যুদ্ধের উত্তাপে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দামে বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বর্তমানের এই উচ্চ মূল্য দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আংশিক বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
দাম কমার নেপথ্যে বড় কারণসমূহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজারের চিত্র দ্রুত বদলে যেতে পারে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
- ওপেক-এ অনৈক্য: সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে জোটের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
- মূল্যযুদ্ধের আশঙ্কা: আমিরাত তাদের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবও বাজারের দখল ধরে রাখতে উৎপাদন বাড়াতে পারে। ইতিহাস বলছে, এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম দ্রুত কমে যায়। যেমনটি হয়েছিল ২০২০ সালে সৌদি-রাশিয়া মূল্যযুদ্ধের সময়, যখন তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
- অতিরিক্ত সরবরাহ: মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থার মতে, ২০২৭ সালের মধ্যে তেলের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, যা বাজারে বাড়তি সরবরাহ তৈরি করে দামে বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝোঁক বর্তমান জ্বালানি সংকট বড় আমদানিকারক দেশগুলোকে বিকল্প পথের সন্ধান দিচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পারমাণবিক শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তেলের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে।



