১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উৎপাদনে রেকর্ড গড়ল রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

৩ মে ২০২৬

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুতের রেকর্ড চাহিদার মধ্যেও কেন্দ্রটি মাসজুড়ে ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। রোববার (৩ মে) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এপ্রিল মাসে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৯ শতাংশেরও বেশি একাই জোগান দিয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাসজুড়ে গড়ে ৮০ শতাংশ প্লান্ট লোড ফ্যাক্টর (পিএলএফ) ধরে রেখে কেন্দ্রটি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় ‘অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে যখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ছিল, তখন কেন্দ্রটি প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন বজায় রেখে গ্রিড স্থিতিশীল রেখেছে।

ধারাবাহিক সাফল্য ও সক্ষমতা এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো এক মাসে ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড গড়ল কেন্দ্রটি। এই সাফল্য কেন্দ্রটির নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দেয়। বর্তমানে ভারতের এনটিপিসির বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি প্রকৌশলীরাই এই কেন্দ্রের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা দেশের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় উদাহরণ।

পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অত্যাধুনিক ‘আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তিতে নির্মিত। এতে ব্যবহৃত উন্নত ফ্লু গ্যাস ডি-সালফারাইজেশন (এফজিডি) প্রযুক্তি কঠোরভাবে পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী রমানাথ পূজারী এই অর্জনকে দুই দেশের সফল সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শিল্প ও আবাসিক খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে রামপাল কেন্দ্রটি এখন বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রধান সম্পদে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ