পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের একাধিপত্য ভেঙে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক উত্থানের নেপথ্যে কাজ করেছে এক সুনিপুণ নীল নকশা। দলটির কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ১৪ দিনের ম্যারাথন পরিকল্পনা অবশেষে সফল হয়েছে। দিনভর জনসভা আর গভীর রাত পর্যন্ত সাংগঠনিক বৈঠকের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সেই কৌশলের সফল বাস্তবায়নে কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতা।
বিজেপির জয়ের ৫ নেপথ্য নায়ক
১. ধর্মেন্দ্র প্রধান: পুরো নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান কৌশলবিদ ছিলেন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক সমন্বয় রক্ষা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে রাজ্য শাখার সেতুবন্ধন হিসেবে তিনি পর্দার আড়াল থেকে মূল ভূমিকা পালন করেন।
২. ভূপেন্দ্র যাদব: তার প্রধান দায়িত্ব ছিল বুথ পর্যায়ের মাইক্রো-ম্যানজমেন্ট। বিহার জয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের চাঙ্গা করা এবং নির্বাচনী আইনি জটিলতা সামলানোর গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
৩. সুনিল বানসাল: উত্তরপ্রদেশের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতা বাংলায় গড়ে তুলেছিলেন ‘পান্না প্রমুখ’ বা শক্তিশালী তৃণমূল বাহিনী। তৃণমূলের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি মোকাবিলায় তার তৈরি করা সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামোই জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
৪. বিপ্লব দেব: ত্রিপুরার প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রী বাম শাসন উৎখাতের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আগ্রাসী প্রচারণার মাধ্যমে ঝিমিয়ে পড়া কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তিনি কার্যকরী ভূমিকা রাখেন।
৫. অমিত মালব্য: ডিজিটাল যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি। সন্দেশখালি এবং আরজি কর মেডিকেল কলেজের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিপুণভাবে তুলে ধরে সরকারবিরোধী জনমত তৈরিতে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
জয়ের টার্নিং পয়েন্ট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহর দেওয়া সপ্তম পে-কমিশন বাস্তবায়ন এবং অনুপ্রবেশ রোধের কঠোর প্রতিশ্রুতি ভোটারদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। প্রথম দফার ভোটের পর তার আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা এবং তৃণমূলের দুর্গে হানা দেওয়ার অদম্য জেদই শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছে।



