১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারত-বাংলাদেশ-চীনে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা

২০২৬ ও ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের বাজারে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের মতো বিশাল দর্শকগোষ্ঠীর দেশে এখন পর্যন্ত কোনো বড় প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের স্বত্ব কিনতে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

মূল্য নিয়ে জটিলতা:

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই অঞ্চলের জন্য বিশ্বকাপের স্বত্বমূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১২০০ কোটি টাকা) নির্ধারণ করেছে। তবে স্থানীয় বাজারগুলো থেকে পাওয়া প্রস্তাবের পরিমাণ ফিফার চাহিদার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় দরকষাকষি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।

ভারতের বাজার চিত্র:

ভারতের বড় দুই প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স জিও এবং স্টার স্পোর্টস যৌথভাবে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা ফিফার প্রত্যাশার মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ। জানা গেছে, তাদের আড়াইশ কোটি টাকার প্রস্তাবটি ফিফা ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে সনি নেটওয়ার্কও এই প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় প্রায় ৮০০ কোটি টাকায় স্বত্ব কেনা হয়েছিল। কিন্তু এবারের ম্যাচের সময়সূচি (মধ্যরাত ও ভোর) হওয়ার কারণে দর্শক কমার আশঙ্কায় বিনিয়োগে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

চীন ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি:

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি অতীতে সক্রিয় থাকলেও এবার এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ নিয়ে দর্শকদের তুমুল আগ্রহ থাকলেও কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন পর্যন্ত স্বত্ব কেনার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

অচলাবস্থার কারণ:

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিফার আকাশচুম্বী মূল্যের চাহিদা এবং স্থানীয় বাজারের বাণিজ্যিক বাস্তবতার মধ্যে বিশাল ব্যবধানই এই অচলাবস্থার মূল কারণ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তিনটি বাজারে সম্প্রচার স্বত্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিশ্বকাপের বৈশ্বিক সম্প্রচার কৌশলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ