১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাঁতার নয়, সমুদ্রের তলদেশে হেঁটে বেড়ায় এই রহস্যময় মাছ!

মাছ বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে পানিতে সাঁতার কাটা কোনো প্রাণীর ছবি। কিন্তু প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেয়ালে সমুদ্রের তলদেশে এমন এক মাছের অস্তিত্ব রয়েছে, যারা সাঁতার কাটার চেয়ে পাখনার ওপর ভর করে হাঁটতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অদ্ভুত এই মাছটির নাম ‘ফ্রগফিশ’

পাখনা যখন হাতের মতো

লোফিফর্মিস বর্গের অন্তর্ভুক্ত এই মাছটির প্রায় ৫০টি প্রজাতি রয়েছে। এদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এদের চলাফেরা। ফ্রগফিশ তাদের বুকের (পেক্টোরাল) এবং পেটের (পেলভিক) পাখনাগুলোকে হাত-পায়ের মতো ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশে হেঁটে বেড়ায়। কখনো তারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটে, আবার কখনো পেশিবহুল পাখনার ওপর ভর দিয়ে বিশেষ ভঙ্গিতে এগিয়ে চলে। তবে বিপদে পড়লে মুখ দিয়ে পানি টেনে নিয়ে গিলের ছিদ্র দিয়ে তা জোরে বের করে ‘জেট প্রপালশন’ পদ্ধতিতে দ্রুত সরে যেতেও এরা পারদর্শী।

নিখুঁত ছদ্মবেশ ও শিকারের কৌশল

ফ্রগফিশ মূলত ‘অ্যাম্বুশ’ বা ওত পেতে থাকা শিকারি। এরা শিকারকে তাড়া করার বদলে পাথুরে তলে বা প্রবালপ্রাচীরের আশেপাশে ছদ্মবেশে স্থির হয়ে বসে থাকে। এদের শরীরের রং ও গঠন চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, কোনো শিকারের পক্ষে এদের শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

মাছ ধরার প্রাকৃতিক ছিপ

শিকার ধরার জন্য ফ্রগফিশের শরীরে রয়েছে এক বিশেষ অঙ্গ, যা অনেকটা মাছ ধরার ছিপের মতো কাজ করে। এর মাথায় থাকা বিশেষ অংশটি কেঁচো বা চিংড়ির মতো দেখায়, যা টোপ হিসেবে কাজ করে। কোনো ছোট মাছ এই টোপকে খাবার ভেবে কাছে এলেই ফ্রগফিশ মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে তাকে গিলে ফেলে। মজার ব্যাপার হলো, এদের পেট এতটাই প্রসারিত হতে পারে যে, তারা নিজেদের শরীরের সমান বা তার চেয়ে বড় শিকারও অনায়াসে সাবাড় করে দেয়।

প্রকৃতির এই রহস্যময় সৃষ্টি ফ্রগফিশ তাদের অদ্ভুত শারীরিক গঠন এবং শিকার ধরার কৌশলের কারণে সমুদ্রবিজ্ঞানী ও জলজ প্রেমীদের কাছে এক পরম বিস্ময়।

সর্বশেষ