২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে অগ্রিম আয়কর যেভাবে আদায় করা হবে

১৯ মে ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য অগ্রিম আয়কর (এআইটি) চালুর চিন্তা করছে। সরকারের এমন ভাবনার খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যাদের করযোগ্য আয় নেই, কিন্তু মোটরসাইকেল রয়েছে, তাদের কাছ থেকে এই কর কীভাবে আদায় করা হবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের প্রতি বছর ট্যাক্স টোকেন ফি দিয়ে তা নবায়ন করতে হয়। এখন সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলসহ কর নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা কিছু যানবাহনকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে এনবিআর।

যেভাবে আদায় করা হতে পারে এই কর

এনবিআরের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় কর আদায়ের ক্ষেত্রে মূলত দুটি পদ্ধতি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে:

১. টিন (TIN) নম্বরের ভিত্তিতে: কর্মকর্তাদের মতে, টিন নম্বরের মাধ্যমে এআইটি আদায় করা হলে আরও বেশি মানুষ কর ব্যবস্থার আওতায় আসবেন এবং ভবিষ্যতে করদাতার সংখ্যা বাড়বে।

২. ট্যাক্স টোকেন ফির সাথে যুক্ত করে: কেউ কেউ মনে করছেন, ট্যাক্স টোকেন ফি আদায়ের বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গেই নতুন কর যুক্ত করা হলে টিন (TIN) ছাড়া বাইক মালিকদের জন্য কর দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ হবে।

মোটরসাইকেলের সিসি ভিত্তিক সম্ভাব্য কর কাঠামো

এনবিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্ষমতা বা সিসি (CC) এর ওপর ভিত্তি করে করের হার নির্ধারণের চিন্তা করা হচ্ছে:

মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্ষমতা (সিসি)সম্ভাব্য বার্ষিক অগ্রিম আয়কর
১১০ সিসি পর্যন্তকরের আওতার বাইরে থাকতে পারে
১১১ থেকে ১২৫ সিসিবছরে প্রায় ২,০০০ টাকা
১৬৫ সিসি পর্যন্তবছরে প্রায় ৫,০০০ টাকা
১৬৫ সিসির বেশিবছরে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত

আওতায় আসছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও

শুধু মোটরসাইকেল নয়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও করের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। এসব যানবাহনের লাইসেন্স নবায়নের সময় নিচের হারে কর আদায়ের আভাস মিলেছে:

  • সিটি করপোরেশন এলাকা: বছরে ৫,০০০ টাকা
  • পৌরসভা এলাকা: বছরে ২,০০০ টাকা
  • ইউনিয়ন পর্যায়: বছরে ১,০০০ টাকা

উদ্যোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। সম্প্রতি এনবিআর কর্মকর্তারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ওপর বিদ্যমান অগ্রিম কর বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান এই উদ্যোগকে ইতিবাচক মনে করলেও করের হার যৌক্তিক করার তাগিদ দিয়েছেন। তবে সরকারের এমন পরিকল্পনার খবরে বাইক চালকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইতোমধ্যে একদল চালক অতিরিক্ত কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবিতে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।

চালকদের মতে, রাইড শেয়ারিং বা পণ্য পরিবহন করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, এই নতুন করের ফলে তাদের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

সর্বশেষ