মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। একই সাথে রুপা, প্লাটিনামসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও নিম্নমুখী হয়েছে। তবে এর বিপরীতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
বুধবার (৩ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে এই দরপতন লক্ষ্য করা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
স্পট গোল্ড ও ফিউচার মার্কেটে দরপতন
বাজারের তথ্যানুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২ মিনিটে (জিএমটি ০৭:০২) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৪৬০.৩৬ ডলারে নেমে আসে। অথচ এর আগের সেশনেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
একইভাবে মার্কিন সোনা ফিউচারের দামও (আগস্ট ডেলিভারি) দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৮৮.৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ভূরাজনীতি ও বাজার পরিস্থিতি
অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়ান্ডা’র সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কেলভিন ওং বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি শান্তিচুক্তির জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিনিয়োগকারীরা এখন গভীরভাবে বিবেচনা করছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত টেকসই নাও হতে পারে।
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির যদি আরও অবনতি ঘটে, তবে সোনার দাম পুনরুদ্ধারের যে সম্ভাবনা ছিল তা থমকে যেতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মন্দা
সোনার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও আজ পতন দেখা গেছে:
- রুপা: স্পট রুপার দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪.২৭ ডলারে নেমেছে।
- প্লাটিনাম: দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৯২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- প্যালাডিয়াম: দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৩৬১.৭৫ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতির নতুন কোনো ইতিবাচক তথ্য বা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।



