আজ ৬ আগস্ট, বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনেই ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি সুইজারল্যান্ডের ইউরোপীয় কাউন্সিল ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এ কর্মরত অবস্থায় বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইটটি (http://info.cern.ch) সবার জন্য উন্মুক্ত করেছিলেন। এর মধ্য দিয়েই বিশ্বজুড়ে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ (www)-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে পড়া টিম বার্নার্স-লি ১৯৮০-এর দশকে সার্নে যোগ দেন। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সহজে খোঁজার উপায় হিসেবে তিনি ১৯৮৯ সালে হাইপারটেক্সটভিত্তিক এক তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে প্রকৌশলী রবার্ট কাইলিয়াউ-এর সহায়তায় ১৯৯০ সালে তাদের যৌথ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়, যার নাম রাখা হয় ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’।
১৯৯০ সালের শেষ দিকে স্টিভ জবসের নকশা করা নেক্সট (NeXT) কম্পিউটার ব্যবহার করে বার্নার্স-লি ওয়েব পেজ তৈরির জন্য এইচটিএমএল (HTML), তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এইচটিটিপি (HTTP) এবং ওয়েব ঠিকানার জন্য ইউআরএল (URL) উদ্ভাবন করেন। একই সঙ্গে তিনি তৈরি করেন প্রথম ব্রাউজার ও ওয়েব সার্ভার সফটওয়্যার। এরপর ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট প্রকাশ করা হয় বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট, যেখানে প্রকল্পটি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সে তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল।
বিপ্লবী এই উদ্ভাবনটি কোনো বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করেননি টিম বার্নার্স-লি। এমনকি তিনি সার্নের পেটেন্ট করার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন, যাতে এই প্রযুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং দ্রুত উন্নত হতে পারে।
পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে মোসাইক ব্রাউজার এবং নব্বইয়ের দশকে ইয়াহু, অ্যামাজন, ইবে ও গুগলের মতো প্রযুক্তি দানবদের উত্থানের নেপথ্যে এই প্রথম ওয়েবসাইটটিই মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে অসামান্য অবদানের জন্য টাইম সাময়িকীর বিংশ শতাব্দীর সেরা ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পান টিম বার্নার্স-লি এবং ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন।



