রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে পথচারীর নি’হতের ঘটনার পর ঢাকা মেট্রোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনা না ঘটার রেকর্ড, যান্ত্রিক ত্রুটি না হওয়া এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাপকাঠিতে বিশ্বের যে ৫টি মেট্রো ব্যবস্থাকে সবচেয়ে নিরাপদ ও উন্নত অবকাঠামোর জন্য অনুসরণীয় বলা হয়, সেগুলো হলো:
১. হংকং এমটিআর (MTR) – (Mass Transit Railway)
- নিরাপদ হওয়ার কারণ: এটি উন্নত অবকাঠামো ও পরিচালনার উৎকর্ষের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত। নিয়মিতভাবে এটি ৯৯.৯% সময়মতো চলাচলের রেকর্ড বজায় রাখে। স্টেশনগুলো আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং হুইলচেয়ার প্রবেশযোগ্য। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য স্পর্শনির্ভর প্ল্যাটফর্ম ফ্লোরসহ সহজে প্রবেশগম্যতার ব্যবস্থা রয়েছে।
২. সিউল মেট্রোপলিটন সাবওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া
- নিরাপদ হওয়ার কারণ: বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও সময়নিষ্ঠতার জন্য বিখ্যাত। সব স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন দরজা রয়েছে, যা দুর্ঘ’টনা রোধ করে, শব্দ কমায় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পুরো সিস্টেমে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়।
৩. সিঙ্গাপুর এমআরটি (MRT) – (Mass Rapid Transit)
- নিরাপদ হওয়ার কারণ: এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মেট্রো ব্যবস্থাগুলোর একটি এবং আধুনিকতা ও নিখুঁত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য শীর্ষে। এর অধিকাংশ ট্রেনই চালকবিহীন ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। স্টেশনের ভেতর কঠোরভাবে খাওয়া, পান করা ও ধূমপান নি’ষি’দ্ধ, যা পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ড তৈরি করেছে। কিছু স্টেশন দুর্যোগের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে।
৪. সাংহাই মেট্রো, চীন
- নিরাপদ হওয়ার কারণ: রুট-দৈর্ঘ্যের দিক থেকে এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেট্রো নেটওয়ার্ক। এর অবকাঠামো বিপুল যাত্রী ধারণক্ষমতার জন্য পরিকল্পিত এবং বেশ নিরাপদ। এই মেট্রোতে পিক আওয়ারে প্রতি ৯০ সেকেন্ড পর পর ট্রেন ছাড়ে, যা উন্নত পরিচালন ক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
৫. কোপেনহেগেন মেট্রো, ডেনমার্ক
- নিরাপদ হওয়ার কারণ: এটি তার পরিশীলিত, ব্যবহারবান্ধব নকশা ও চমৎকার পরিচালনার জন্য পরিচিত। এই মেট্রো সম্পূর্ণরূপে চালকবিহীন এবং এটি ২৪ ঘণ্টা চলাচল করে। দিনের অধিকাংশ সময়ই প্রতি দুই মিনিট পর পর ট্রেন আসে, যা নির্ভরযোগ্যতা ও আরামদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। এটি সাইকেল হাব, বাস ও ট্রেনের সঙ্গে চমৎকারভাবে সংযুক্ত।



