কোরবানীর পর থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম কমছেই

২৪ জুন ২০২৬

ঈদুল আজহার পর দেশের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি। সংশ্লিষ্টরা জানান, কোরবানির মাংস ঘরে ঘরে সংরক্ষিত থাকায় বাজারে মুরগির চাহিদা একবারে তলানিতে ঠেকেছে। এর বিপরীতে পশুপাখির খাদ্যসহ অন্যান্য উপকরণের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমাতে পারছেন না খামারিরা, যার ফলে প্রতিটি ব্যাচেই গুনতে হচ্ছে বড় অঙ্কের লোকসান।

উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রি মূল্য অনেক কম

খামারিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির বাজারে এক বিশাল অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে:

  • উৎপাদন খরচ: প্রতি কেজি প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।
  • বর্তমান বাজার দর: প্রতি কেজি মাত্র ১১০ থেকে ১২০ বা ১২৫ টাকা।
  • গড় লোকসান: প্রতি কেজিতে খামারিদের লোকসান হচ্ছে কমপক্ষে ২০ টাকা।

উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের খামারিদের অবস্থা এখন সবচেয়ে শোচনীয়। পঞ্চগড়ের খামারি আব্দুল খালেক ১,০০০ মুরগি বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা লোকসান করেছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের ১৫,০০০ মুরগির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বড় খামারি রবিউল আউয়াল জানান, এখন ১৫ টাকা দরে বাচ্চা কিনেও খামারির খরচ উঠছে না, যার খামার যত বড়—তার লোকসানের অঙ্কও তত বড় হচ্ছে। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে খামার বন্ধ রাখছেন এবং ডিলারদের কাছে লাখ লাখ টাকার ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন।

বাজারে চাহিদার সংকট

পঞ্চগড়ের পাইকারি মুরগি ব্যবসায়ী ‘মাসুদ পোল্ট্রি’-র স্বত্বাধিকারী মোঃ আমান আলী জানান, বাজারে পোল্ট্রি মুরগির চাহিদা এখন তলানিতে। আগে যেখানে তিনি প্রতিদিন ৩ গাড়ি মুরগি বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন, এখন তা কমে মাত্র ১ গাড়িতে নেমে এসেছে। কোরবানির রেশ থাকার পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত মাছ ও সবজির সরবরাহ থাকায় ক্রেতারা মুরগি কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।

সংকটে হ্যাচারি শিল্পও

বাজারের এই মন্দা পরিস্থিতি নিয়ে কাজী ফার্মসের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) সরদার সাব্বির আহমেদ বলেন:

“বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির দাম কম থাকায় খামারিরা একদিনের ব্রয়লার বাচ্চা কিনতে চাইছেন না। ফলে একদিনের বাচ্চার দামও কমে গেছে এবং হ্যাচারিগুলো ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, পরবর্তীতে যখন ব্রয়লারের চাহিদা আবার বাড়বে, তখন হ্যাচারিগুলোর চলমান এই বড় লোকসান পুষিয়ে নিতে বাজারভিত্তিক দরে বাচ্চা বিক্রির সুযোগ দেওয়া সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তিযুক্ত হবে। অন্যথায় দেশের হ্যাচারি শিল্প সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ