শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

৩০ জুন ২০২৬

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের আটকে থাকা বিগত দুই মাসের বকেয়া বেতনও জুলাই মাসেই একযোগে পরিশোধ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে শুধু প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এমনভাবে এই খাতকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও কার্যকর, গবেষণানির্ভর ও পরিকল্পিত ভূমিকা নিতে হবে।

বেতন আটকে থাকার নেপথ্য কারণ বাজেট ও অর্থসংকট নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত সেপ্টেম্বর থেকে এনটিআরসির মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। শিক্ষক সংকট দূর করতে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকার এই নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করেছে, যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় টাকা রাখেনি। সরকার গঠনের পর দেখা গেল এই খাতে ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন, কিন্তু ফান্ডে সেই অর্থ ছিল না। বাজেটে বরাদ্দ না থাকার কারণেই মূলত মাদরাসা শিক্ষকদের ২ মাসের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আগামী জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ সব বেতন নিয়মিত হয়ে যাবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে মাদরাসা শিক্ষার কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফাজিল ও কামিল শিক্ষাকে মূলধারার উচ্চশিক্ষার সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ইসলামি শিক্ষা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, আধুনিকায়িত শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাস্তবমুখী কারিকুলাম।

ইবতেদায়ী মাদরাসার এমপিওভুক্তি নিয়ে জটিলতা ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোর এমপিওভুক্তি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো এমপিওর জন্য অনশন করছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী ৩৫ শতক জমিতে প্রতিষ্ঠান এবং এনটিআরসি থেকে শিক্ষক নিবন্ধনের শর্তে তাদের এমপিও পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিগত আওয়ামী সরকার হঠাৎ করে ২৩ শতক জমিতে প্রতিষ্ঠান নির্মাণের শর্ত ঠিক করলো, পাশাপাশি ব্যানবেইস থেকে এদের যে নম্বর দেয়া হয় সেগুলোর কোনো প্রফেশনাল ইন্সপেকশন বা তদারকি ছিল না। ফলে নতুন করে সরকার গঠনের পর এখন আমরা এই খাত নিয়ে এক অথৈ সাগরে পড়েছি।

সর্বশেষ