সিরিয়া ও লেবানন থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সেনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপে ট্রাম্প এই তাগিদ দেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্পের অবস্থান ও উদ্বেগ
এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরাসরি বলেন:
“তারা (সিরিয়া ও লেবানন) সেখানে আপনাদের চায় না। আপনাদের সেনা পুনর্মোতায়েন করা উচিত।”
আইডিএফ-এর বিস্ময় ও দ্বিমত
এদিকে অ্যাক্সিওসের এই প্রতিবেদনকে ‘বিস্ময়কর’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একাধিক সূত্র। দ্য জেরুজালেম পোস্টকে তারা জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো ফোনালাপের বিষয়ে তারা অবগত নন। আইডিএফ-এর দাবি, বর্তমানে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং শিগগিরই পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিতও নেই।
এই কূটনৈতিক গুঞ্জনের মধ্যেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন সফরের পরিকল্পনা করছেন নেতানিয়াহু। তবে হোয়াইট হাউস বা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনও এই বৈঠকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
রোমে ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইতালির রোমে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। বৈঠকে ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে।
গত ২৬ জুন ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য—লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে আইডিএফ সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম করা। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের দুটি এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে এবং পরবর্তীতে ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেবে লেবাননের সেনাবাহিনী।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর ফোনালাপ
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের ঠিক একদিন পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই ফোনালাপ হয়। সিরিয়া সফরের পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে সিরিয়ার সরকারের ইতিবাচক পরিবর্তন ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।



