চরম গরমে বিপর্যস্ত কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র, সতর্কতা জারি

১৫ জুলাই ২০২৬

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আবারও আঘাত হেনেছে তীব্র ও রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ। অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং বায়ুর মানের আশঙ্কাজনক অবনতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কোটি কোটি মানুষ। পরিস্থিতি বিবেচনায় কানাডার একাধিক প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রধান শহরে জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বুধবার পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার এই দুই দেশে চরম গরমের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

কানাডায় সতর্কতা ও ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন

কানাডার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশটির ওন্টারিও, কুইবেকের একাংশ, ম্যানিটোবা এবং নর্থওয়েস্ট টেরিটরিজসহ বেশ কিছু অঞ্চলে তীব্র দাবদাহের সতর্কতা বহাল রয়েছে।

  • টরন্টোতে জনজীবন বিপর্যস্ত: গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে তাপমাত্রা রেকর্ড ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
  • রেলযোগাযোগে বিঘ্ন: অতিরিক্ত গরমে রেললাইনের পাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপশহরগামী ট্রেন চলাচলে মারাত্মক বিলম্ব ঘটে।
  • বায়ুর মানের অবনতি: উচ্চ আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে বায়ুর মান বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনভায়রনমেন্ট কানাডা।

তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মধ্য ও পূর্ব কানাডায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি শীতল হাওয়া প্রবেশ করতে পারে। তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও এর ফলে তীব্র বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পারদ ছুঁল ৩৯ ডিগ্রি, ভাঙল পুরোনো রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া এবং বাফেলোসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বুধবার পর্যন্ত তীব্র গরমের সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।

  • পূর্বাভাস: ওয়াশিংটন ডিসিতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, নিউইয়র্কে প্রায় ৩৮ ডিগ্রি এবং শিকাগোতে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি হবে।
  • ভেঙেছে সর্বকালের রেকর্ড: চলতি সপ্তাহের শুরুতে মন্টানার বিলিংস শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে (৪৪° সেলসিয়াস) পৌঁছায়, যা শহরটির আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। একইভাবে ইউটাহর সল্ট লেক সিটিতেও সর্বকালের সর্বোচ্চ ১০৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪৩° সেলসিয়াস) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

জুলাইয়ের শুরুতেই বিপর্যয় ও প্রাণহানি

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছিল, তাতে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম সংকটে পড়েন। সে সময় তীব্র গরমে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় এবং ওয়াশিংটন ডিসির স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী প্যারেডসহ বেশ কয়েকটি উৎসব বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিশাপ

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের নানাবিধ ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন, তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে প্রায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে এই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ