আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে লিভারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবার হজমে সহায়তা করা, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ এবং ভিটামিন ও শক্তি সঞ্চয়সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে এই অঙ্গটি। লিভারের অন্যতম বিশেষত্ব হলো, ক্ষতিগ্রস্ত হলে এটি অনেকাংশে নিজেকে নিজে সারিয়ে তুলতে পারে। তবে দীর্ঘদিন কিছু খারাপ অভ্যাস চালিয়ে গেলে এই অঙ্গটি একসময় আর কাজ করতে পারে না। তখন ফ্যাটি লিভার, লিভারে প্রদাহ, এমনকি সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের বিভিন্ন রোগের শুরুতে অনেক সময় কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। দৈনন্দিন তিনটি ভুল অভ্যাস রয়েছে, যা ৪০ বছর বয়সের আগেই লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে দিতে পারে—
১. নিয়মিত মদপান: অল্প পরিমাণে অ্যালকোহল পান করাকে অনেকেই ক্ষতিকর মনে করেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিভারের জন্য অ্যালকোহলের কোনো ‘নিরাপদ মাত্রা’ নেই। অ্যালকোহল গ্রহণের পর প্রতিবারই তা শরীর থেকে বের করতে লিভারকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘদিন নিয়মিত মদপানের ফলে প্রথমে লিভারে চর্বি জমে এবং এরপর প্রদাহ শুরু হয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে একপর্যায়ে লিভারের কোষ নষ্ট হয়ে সিরোসিস বা লিভার ফেইলিওরের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়।
২. অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড ও প্যাকেটজাত খাবার: ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই নিয়মিত চিপস, বার্গার, পিৎজা, কোল্ড ড্রিংকস, কেক, ইনস্ট্যান্ট নুডলসের মতো আল্ট্রা-প্রসেসড খাবারের ওপর নির্ভর করেন। এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ, অস্বাস্থ্যকর তেল ও রাসায়নিক উপাদান থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে লিভারে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে, যা ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’-এর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এই রোগের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
৩. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ: সারাক্ষণ কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা কিংবা রাতে কম ঘুম হওয়াও লিভারের ক্ষতির অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে পেটের চারপাশে চর্বি জমতে শুরু করে। এটি সরাসরি ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
লিভার সুস্থ রাখতে চিকিৎসকদের পরামর্শ: লিভার ভালো রাখতে আগেভাগেই জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। অ্যালকোহল সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে খাদ্যতালিকায় বাড়িতে তৈরি খাবার, শাকসবজি, ফল, ডাল ও মাছ রাখা উচিত। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত পানি পান, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান পরিহার করা এবং রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম লিভারের সুস্থতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।



