চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই স্বস্তির খবর দিলো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। টানা তিন মাস ৯ শতাংশের ওপরে থাকার পর সদ্য বিদায়ী জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৩২ শতাংশে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিবিএস জুলাই মাসের এই হালনাগাদ মূল্যস্ফীতির তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে।
বিগত মাসগুলোর মূল্যস্ফীতি বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছিল ৯.৪২ শতাংশ—যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর (১৬ মাসের মধ্যে) সর্বোচ্চ। এরপর জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৯.১৬ শতাংশে। জুনের ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসে তা আরও কমে ৮.৩২ শতাংশে নেমে এসেছে।
খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতের চিত্র জুলাই মাসের হিসাব অনুযায়ী:
- খাদ্য মূল্যস্ফীতি: দাঁড়িয়েছে ৭.১৬ শতাংশে।
- খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি: অবস্থান করছে ৯.২৮ শতাংশে।
- বিদায়ী অর্থবছরের গড়: সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৮ শতাংশ।
সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর প্রভাব মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাবে বাজারে চাল, শাকসবজি এবং মাছ-মাংসের দাম এখনও ঊর্ধ্বমুখী।
এর সাথে যোগ হয়েছে মজুরি বৃদ্ধির ধীরগতি। জুলাই মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২২ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির (৮.৩২%) চেয়ে কম। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় সীমিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ খরচের চাপে রয়েছেন। অনেকেই সংসার চালাতে যাতায়াত ও কেনাকাটায় কাটছাঁট করছেন কিংবা ধারদেনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।



