মেটা মামলায় হারলে বদলে যেতে পারে ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুক

১৭ আগস্ট ২০২৬

তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চাপে রয়েছে মেটা। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শুরু হচ্ছে ৩০টি অঙ্গরাজ্যের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার জুরি ট্রায়াল। এতে মেটা হেরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের বেশ কিছু জনপ্রিয় ফিচার ও অ্যালগরিদমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শিশু-কিশোরদের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অঙ্গরাজ্যগুলো মেটার কাছে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।

শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, মামলায় ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের বেশ কিছু মৌলিক ফিচার পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাইক সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধ করা, ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ব্যবস্থা সীমিত বা বন্ধ করা এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য অভিভাবক যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা।

এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে সহায়ক বলে অভিযোগ করা সুপারিশ অ্যালগরিদমে পরিবর্তন, কিছু চেহারা পরিবর্তনকারী ইমেজ ফিল্টার সরিয়ে দেওয়া, ভিডিওর অটোপ্লে বন্ধ করা, একজন ব্যবহারকারীর একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরির সুযোগ সীমিত করা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়া বা নির্দিষ্ট সময় পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া পোস্টের সুবিধা বন্ধ করার দাবিও রয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, এসব ফিচার এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে শিশু-কিশোরসহ ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করেন এবং বারবার ফিরে আসেন। পাশাপাশি ঘন ঘন নোটিফিকেশন পাঠিয়েও ব্যবহারকারীদের অ্যাপে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মেটা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা অভিযোগগুলোর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করেন। তরুণদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে মেটার দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণেও সেটি উঠে আসবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।

মামলাটির শুনানি হবে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান ফেডারেল বিচারক ইভন গনজালেজ রজার্সের আদালতে। এর আগে ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানের মধ্যকার বহুল আলোচিত মামলাটিও তার আদালতে হয়েছিল।

এদিকে নিউ মেক্সিকোতে মেটার বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলায় ইতোমধ্যে বড় ধরনের রায় এসেছে। সেখানে বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটাকে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানা করেছেন এবং প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য লাইক সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধ করা, কিশোরদের মাধ্যমে নগ্ন ছবি পাঠানো বা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা এবং নির্দিষ্ট সময়ে পুশ নোটিফিকেশন সীমিত করার নির্দেশ রয়েছে।

মেটা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, এবার ৩০টি অঙ্গরাজ্যের মামলার গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর মোট জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে মেটার বিরুদ্ধে রায় গেলে নিউ মেক্সিকোর মতো শুধু একটি অঙ্গরাজ্যে নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার-পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার চাপ তৈরি হতে পারে।

মামলায় মেটার অভ্যন্তরীণ গবেষণার তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় দেখা গেছে, লাইক সংখ্যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে সামাজিক তুলনার প্রবণতা বাড়াতে পারে। অন্যের ছবি বা জীবনযাপনের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলনা করার এই প্রবণতার সঙ্গে একাকিত্ব, নিজের শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং নেতিবাচক আবেগের সম্পর্ক থাকার কথাও গবেষণায় উঠে এসেছে।

মেটা জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে ২০ লাখের বেশি নথি আদালতে জমা দিয়েছে।

মামলায় মেটা হেরে গেলে বিপুল অঙ্কের আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের দীর্ঘদিনের পরিচিত ফিচার, নোটিফিকেশন ব্যবস্থা এবং সুপারিশ অ্যালগরিদমেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে।

সর্বশেষ